চীনের থিয়েনচিন বন্দর এখন আর কেবল একটি ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। বন্দরটির কনটেইনার টার্মিনালে এখন মানুষের হাতের ছোঁয়া ছাড়াই চলছে বিশাল সব কর্মযজ্ঞ।
থিয়েনচিনের এই কনটেইনার টার্মিনাল ৫জি যোগাযোগ, বেইতৌ স্যাটেলাইট নেভিগেশন এবং ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) মাধ্যমে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন কনটেইনার তুলে নিচ্ছে, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত পরিবহন রোবট এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
পুরো কার্যক্রম ডিজিটাল ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে মনিটর করা যায়। থিয়ানচিন পোর্ট গ্রুপের ডিজিটাল রূপান্তর দফতরের উপপরিচালক ছু মিং এই নিখুঁত কর্মপদ্ধতিকে তুলনা করেছেন ‘ডিজিটাল ব্যালে’র সঙ্গে। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে গত ২৫ ডিসেম্বর বন্দরটি ‘সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কনটেইনার টার্মিনাল হ্যান্ডলিং সিস্টেম’ শিরোনামের একটি পেটেন্টের জন্য ‘থিয়েনচিন পেটেন্ট গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।
পোর্টের স্মার্ট রূপান্তরের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বন্দরের ঘাটে বসানো হয়েছে উইন্ড টারবাইন ও সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল। বর্তমানে এখানে বায়ু ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন নতুন জ্বালানির স্থাপিত সক্ষমতা ১৫০ মেগাওয়াটের বেশি। বছরে প্রায় ৩৫ কোটি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা বন্দরের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি পূরণ করে।
বন্দর পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ট্রাকগুলোকেও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির আওতায় আনা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে এখানে একটি নতুন চার্জিং কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ৩৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ৩৫টি দ্রুত চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এটি প্রতিদিন প্রায় ২৫০টি বৈদ্যুতিক ভারী ট্রাকের চার্জিং চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও থিয়েনচিন বন্দরের ভূমিকা বাড়ছে। গত বছর শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনের সময় সিনচিয়াংয়ের খোরগোস থেকে উজবেকিস্তানের তাশখন্দ পর্যন্ত রেলপথে আসা পণ্য অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কনটেইনারে পরিবহন করা হয়। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পণ্য গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ায় চীন ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও সহজ হয়েছে।
থিয়েনচিন পোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবিষ্যতে ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা সেবা আরও সম্প্রসারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ আরও জোরদার করবে। এআই ও সবুজ প্রযুক্তির সমন্বয়ে থিয়েনচিন পোর্ট আজ বিশ্বের কাছে স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব বন্দরের এক সফল মডেল।
সূত্র: সিএমজি