নারী সুরক্ষার চুক্তি ছাড়ায় তুরস্কের সমালোচনায় বাইডেন

নারীর প্রতি সহিংসতা মোকাবিলা ও সুরক্ষার আন্তর্জাতিক একটি চুক্তি থেকে তুরস্কের বেরিয়ে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মধ্য দিয়ে এই ঘোষণা দেয় দেশটি। এর এক দিনের মাথায় রবিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর হতাশার কথা জানান বাইডেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তুরস্কের সিদ্ধান্ত নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের প্রচেষ্টায় এক ধাপ অবনমন।

জো বাইডেন বলেন, নারীর সুরক্ষা এবং নির্যাতনকারীদের জবাবদিহি করার জন্য তৈরি আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলি প্রত্যাখ্যান না করে দেশগুলোর উচিত এসব সহিংসতার অবসান ঘটাতে তাদের প্রতিশ্রুতি জোরদার ও নবায়নের জন্য কাজ করা।

পারিবারিক ও অন্যান্য সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে বাধ্য করতে ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত হয় ইস্তাম্বুল কনভেনশন। বিশ্বে এই ধরনের চুক্তি ছিল এটাই প্রথম। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও ৪৫টি দেশ স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো পারিবারিক সহিংসতা, বৈবাহিক ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষা দিতে আইন প্রণয়ন করে। এই চুক্তি থেকেই বেরিয়ে গেলো তুরস্ক।

এই সিদ্ধান্তের কোনও কারণ জানায়নি আঙ্কারা। তবে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন দল রক্ষণশীল একে পার্টি গত বছর চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানায়। ওই সময়েই নারীর প্রতি সহিংসতা কিভাবে মোকাবিলা করা হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

এক টুইট বার্তায় তুরস্কের পরিবার, শ্রম এবং সামাজিক নীতি বিষয়ক মন্ত্রী জেহরা জুমরাত বলেন, ‘নারী অধিকারের নিশ্চয়তা আমাদের সংবিধানে রয়েছে। আমাদের বিচার ব্যবস্থা বহুমাত্রিক এবং প্রয়োজন পড়লে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য যথেষ্ট কঠোর।’

রক্ষণশীলদের দাবি, ওই চুক্তির কারণে পারিবারিক ঐক্য নষ্ট হচ্ছে, বিচ্ছেদ উৎসাহিত হচ্ছে আর এতে বর্ণিত সমতার নীতি ব্যবহার করে সমকামী সম্প্রদায় সমাজে আরও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়াকে স্বাগত জানালেও এর বিরোধিতা করছে বিরোধী দল সিএইচপি। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান।