পুতিনকে উৎখাতে কাজ করছে রুশ ভাষার ইউক্রেনীয় টিভি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের লক্ষ্যে কাজ করছে রুশ ভাষার একটি টেলিভিশন চ্যানেল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ‘ফেব্রুয়ারি মর্নিং’ নামের টিভি চ্যানেলটির একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও দৃশ্যত অসম্ভব লক্ষ্য রয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিনকে উৎখাত করা।

ইউক্রেনের অপর টেলিভিশন চ্যানেলের মতোই রাশিয়াতে চ্যানেলটির দর্শক রয়েছে। তাদের অনুষ্ঠান পরিকল্পনাও রুশদের আকৃষ্ট করার জন্য সাজানো হয়। ইউক্রেনীয় ও রুশ মিলিয়ে তাদের কর্মী সংখ্যা ৭০ জন। এদের মধ্যে কয়েকজন ছদ্মবেশে রাশিয়ার বিভিন্ন প্রাদেশিক শহরে কাজ করেন।

চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া পনোমারেভ রাশিয়ার পার্লামেন্টের একজন সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ায় সংযোজনের বিরুদ্ধে তিনিই একমাত্র ভোট দিয়েছিলেন। প্রতিশোধ পরায়ণ ক্রেমলিন পরে তাকে পার্লামেন্ট থেকে বরখাস্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা অবস্থায় রাশিয়ায় তাকে নিষিদ্ধ করা হয়। কিয়েভে অবস্থানের পর ২০১৯ সালে তিনি ইউক্রেনের নাগরিক হন।

পনোমারেভ বলছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন বন্ধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মস্কোর শাসকদের ক্ষমতা থেকে উৎখাত। পুতিন ক্ষমতায় থাকলে এই সংঘাত বছর, এমনকি দশকও চলতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের কাজ হলো সাধারণ জনগণকে বিদ্রোহী করে তোলা। তারা যে একা নন সেই বোধ তাদের মধ্যে তৈরি করা।

চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়া পনোমারেভ

তিনি স্বীকার করেছেন, বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় টিভির প্রোপাগন্ডার কারণে রুশদের বিদ্রোহী করে তোলা কঠিন কাজ হবে। কিন্তু এরই মধ্যে দুটি গোষ্ঠী রয়েছে যারা আশা জাগাচ্ছে। এদের মধ্যে একটি হলো শহুরে তরুণ মুক্তমনা গোষ্ঠী এবং কারাবন্দি নেতা আলেক্সেই নাভালনির সমর্থকরা।

তিনি জানান, রাশিয়ার শ্রমজীবীদের হতাশ অংশ দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ক্ষুব্ধ। এরা প্রায়ই বাম ঘরানার এবং অসংগঠিত। তারা দেশ ছেড়ে পালায়নি এবং অসহযোগিতামূলক কর্মসূচি পালন করতে পারে। ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যাক্টিভিস্টরা বেশ কয়েকটি সেনা নিয়োগের কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে।

পশ্চিমাদের কাছ থেকে চ্যানেলটির জন্য অর্থায়ন চাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন সাবেক এই রুশ এমপি। তবে তিনি বলছেন, ওয়াশিংটন ও লন্ডন ক্ষমতা পরিবর্তনের ডাক দিতে উদ্বিগ্ন। যদিও গোপনে তারা এটিই চায়।

ক্রেমলিনের দৃষ্টিতে তাকে বিদেশি গুপ্তচর বলে মনে করা হয় কিনা জানতে চাইলে পোনোমারেভ বলেন, তারা যদি আমাকে এটি বলে তাহলে আমি গর্ববোধ করব। সন্ত্রাসী, জঙ্গি, এগুলো হলো কাজের একটি স্বীকৃতি। দুর্ভাগ্যবশত, তারা চতুর। তারা নিশ্চিত করেছে যাতে বামপন্থী ও জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেন না থাকে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ধনাঢ্য-অভিজাতরা নাখোশ। কিন্তু এই মুহূর্তে তারা খুব ভীত নয়। তাদের ১৯১৭ সালের ভুত দেখা প্রয়োজন।