প্রকাশ্য স্থান থেকে সোভিয়েত আমলের যুদ্ধের স্মৃতিসৌধ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এস্তোনিয়া। দেশটির সরকার বলেছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে ‘সমাজে আরও শত্রুতা সৃষ্টি এবং পুরানো ক্ষত জাগিয়ে তোলা’ প্রতিরোধ করা।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর রাশিয়ার সীমান্তবর্তী নার্ভা শহরের একটি আইকনিক টি-৩৪ ট্যাংক রেপ্লিকা এস্তোনিয়ার যুদ্ধ জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নার্ভা এস্তোনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর। এই শহরের ৬০ হাজার বাসিন্দার প্রায় ৯৭ শতাংশই রুষভাষী।
এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ইআরআর জানিয়েছে, রেপ্লিকা ট্যাংকটি মঙ্গলবার সরিয়ে নিয়ে একটি সামরিক ট্রাকে তুলে ২০০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্যাংকটির আশপাশ ছাড়াও অন্য স্থানীয় স্মৃতিস্তম্ভে মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এস্তোনিয়ার আশঙ্কা ইউক্রেনে চালানো রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে নার্ভাতে বিশেষ করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী কাজা কাল্লাস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এস্তোনিয়ার শান্তি বিঘ্নিত করার জন্য অতীতকে ব্যবহার করার সুযোগ রাশিয়াকে দিতে পারবে না’ তার সরকার। তিনি বলেন, ‘নার্ভার স্মৃতিসৌধের চারপাশে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির গতি বিবেচনা করে, জনশৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উরমাস রেইনসুলা বলেছেন, রুশ দখলদারিত্বকে মহিমান্বিত করতে এই ধরনের স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় আর এখন এগুলোর কোনও স্থান এস্তোনিয়ার প্রকাশ্য স্থানে নেই।
গত সপ্তাহে এস্তোনিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র বলেন, ‘ইতিহাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, উপরন্তু একটি সাধারণ ইতিহাসের সঙ্গে এবং যারা ইউরোপকে ফ্যাসিবাদ থেকে বাঁচিয়েছিল তাদের স্মৃতিসৌধ সরানো অবশ্যই আপত্তিজনক’।
স্মৃতিসৌধ সরানো ছাড়াও রুশ নাগরিকদের দেওয়া ৫০ হাজার ভিসা বাতিল করেছে এস্তোনিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উরমাস রেইনসুলা বলেন, ‘আমাদের স্বীকার করতে হবে, সাধারণভাবে ইউক্রেনের মাটিতে সংঘটিত এই নৃশংসতায় নিষ্ক্রিয় থাকায় নৈতিক দায়ও বহন করে রুশ সমাজ।
রুশ নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে এনেছে লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং চেক রিপাবলিক। এছাড়া ফিনল্যান্ডও রুশ নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার পরিমাণ ১০ শতাংশ কমিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি