ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় ইউক্রেন

রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা চায় ইউক্রেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা এ বিষয়ে তার দেশের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ইরানের তৈরি ড্রোন নিয়ে ইউক্রেনে রুশ হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন দিমিত্রো কুলেবা। ইউক্রেনের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার লুক্সেমবার্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেন দিমিত্রো কুলেবা। ভার্চুয়ালি এতে যুক্ত হন তিনি। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে দিমিত্রো কুলেবা নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। আমরা অনেক দিন ধরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও যুক্তি শুনেছি। কিন্তু সত্য লুকানো অসম্ভব।’

ইরানি ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভে রুশ হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মস্কোকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের সময় এসেছে।

তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা একটি বার্তা পাঠাবে। এই বার্তাটি হলো, রুশ আগ্রাসনে সহায়তা করলে তার জন্য মূল্য দিতে হবে।

ইরানের তরফে অবশ্য ইউক্রেনে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে ড্রোন দেওয়ার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। উল্টো সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি। তিনি বলেন, তার দেশের তরফে রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের বিষয়ে প্রকাশিত খবরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পশ্চিমা উৎস থেকে এগুলো ছড়ানো হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে দেশটির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তরফে আরও নিষেধাজ্ঞা জারির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন অ্যাসেলবর্ন। ইইউ-এর পদক্ষেপ শুধু কিছু ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন তিনি।

ইউক্রেনের অভিযোগ, সোমবারও ইরানের তৈরি কামিকাজে ড্রোন নিয়ে কিয়েভে সিরিজ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এদিন ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত অন্তত চার দফায় এই হামলা চালানো হয়। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।