রুশ হামলার পর কিয়েভে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির রাজধানী কিয়েভের বেশিরভাগ এলাকায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সকালে কিয়েভ, খারকিভ ও বেশ কয়েকটি ইউক্রেনীয় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌ বহরে ইউক্রেনীয় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব শহরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মস্কো। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এখবর জানিয়েছে।

৯ মাসে প্রবেশ করা চলমান যুদ্ধে সম্প্রতি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও অপর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। এতে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সি কুলেবা বলেন, সামরিক ব্যর্থতার প্রতিশোধ শান্তিপূর্ণ মানুষদের ওপর নিচ্ছে রাশিয়া। শীতের আগে এসব মানুষ বিদ্যুৎ ও উষ্ণতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সোমবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যে প্রতিশোধমূলক ছিল তা নিশ্চিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার রুশ দখলকৃত সেভাস্তোপোলে কৃষ্ণ সাগরের নৌ বহরে আকাশ ও নৌপথে ব্যর্থ ড্রোন হামলার পর প্রতিশোধ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

পুতিন বলেন, আংশিকভাবে সত্য। কিন্তু চাইলে আমরা আরও অনেক কিছু করতে পারতাম। ইউক্রেনীয় ড্রোন আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত শস্যবাহী জাহাজের রুটে প্রবেশ করেছে। এতে জাহাজের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রুশ নৌযানের সুরক্ষা ও খাদ্য শস্য রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে।

এর আগে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ভ্যালেরি জালুঝনি টেলিগ্রামে বলেছেন, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে তার নৌবহরে ড্রোন হামলার জন্য ইউক্রেনকে দোষারোপ করার কয়েক দিন পরে রাশিয়া  সারা দেশে ‘বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ ৫৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং কয়েক ডজন অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ওলেক্সি আরেস্তোভিচ সোমবারের হামলাকে রাশিয়া কর্তৃক সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতি গুরুতর হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিগাল বলেছেন যে, হামলার ফলে এখনও ইউক্রেনের সাতটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন, শহরের ৩০ লাখ মানুষের ৮০ শতাংশ পানি পাচ্ছেন না। কারণ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ৪০ শতাংশ ভোক্তাকে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ২ লাখ ৭০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। সোমবার রাতে পাতালরেল সেবা চালু হয়েছে।

কিয়েভের পশ্চিমে খালি প্লাস্টিকের বোতল এবং পাত্রে শতাধিক মানুষকে পার্কের ফোয়ারা থেকে পানি সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করতে দেখেছেন।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা টুইটারে বলেছেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার বদলে রাশিয়া বেসামরিকদের ওপর হামলা করছে।’