জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্য রফতানির চুক্তিতে রাশিয়ার ফিরে আসার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রশংসা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এটি দেখিয়ে দিয়েছে রুশ আগ্রাসনের ব্যর্থতা। বুধবার তিনি সান্ধ্যকালীন ভাষণে এসব কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, শস্য রফতানি উদ্যোগ বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।
সেভাস্তোপোলে রুশ নৌ বহরে ড্রোন হামলার পর রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছিল কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্য রফতানির চুক্তিতে তারা আর অংশগ্রহণ করবে না। কিন্তু বুধবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউক্রেনের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে যে, তারা সামুদ্রিক করিডোর ব্যবহার করে হামলা চালাবে না। এর ফলে চুক্তিতে ফিরছে রাশিয়া।
জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার এই পিছু হটা দেখিয়ে দিয়েছে যে রুশ ব্ল্যাকমেইল ব্যর্থ। যুদ্ধের আট মাস পর ক্রেমলিন বলছে তারা ইউক্রেনের কাছথেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করেছে। ২৫০ দিন আগে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দাবি করেছিল।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, এগুলো প্রকৃত অর্থে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এই দুটি পরিবর্তন তুলে ধরছে রুশ আগ্রাসনের ব্যর্থতা, তারা কত শক্তিশালী এবং আমরা যখন ঐক্যবদ্ধ রয়েছি তখন আমাদের শক্তি কতটা।
রাশিয়ার শস্য রফতানির চুক্তিতে ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই মাসের দিকে চুক্তিটি নবায়ন করারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। ১৯ নভেম্বর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।
চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার পর রাশিয়ার ফিরে আসাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘ইউ-টার্ন’ হিসেবে দেখছে ইউক্রেন ও পশ্চিমারা। জেলেনস্কির সিনিয়র উপদেষ্টা আন্তন গেরাশেঙ্কো লিখেছেন, পুতিন আবারও অপমানিত হলেন। ক্রেমলিনের ব্ল্যাকমেইলাররা বিশ্বের সামনে নিজেদের হাসির পাত্রে পরিণত করেছেন।