মলদোভার প্রধানমন্ত্রী নাতালিয়া গ্যাব্রিলিতা শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। রুশ ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমা অতিক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগে মলদোভার সরকারও ভেঙে গেছে। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এ খবর জানিয়েছে।
গ্যাব্রিলিতার সরকার পশ্চিমাপন্থী হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেশী ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির একজন সোচ্চার সমর্থক ছিল তার সরকার।
রাশিয়া সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পর মলদোভায় জ্বালানি সংকটসহ মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ইউক্রেনের আক্রমণের পর মলদোভার বিরুদ্ধে আরও পদক্ষেপ নিতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন- এমন আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়াতে রুশ সেনাদের উপস্থিতির কারণে এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে ইউক্রেনে আক্রমণের পর।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেন রুশ গোয়েন্দা সংস্থার একটি পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছে। মলদোভাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে তারা। ওই দিন পরে মলদোভার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে তারা দাবি করেছে, মলদোভাকে অস্থিতিশীল করতে রুশ ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তারা জানতে পেরেছে।
পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া সংবাদ সম্মেলনে গ্যাব্রিলিতা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তার পরিকল্পিত সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারার কথা। কিন্তু শুক্রবার রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের মলদোভার আকাশসীমা অতিক্রমের বিষয়টির কোনও উল্লেখ করেননি।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ভ্যালেরি জালুঝনি বলেছিলেন, কৃষ্ণ সাগর থেকে ছোড়া দুটি ক্যালিবার ক্ষেপণাস্ত্র মলদোভার আকাশসীমায় প্রবেশ করে, পরে রোমানিয়ার আকাশ দিয়ে ইউক্রেনে প্রবেশ করে।
তবে ন্যাটো সদস্য রোমানিয়া পরে জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা অতিক্রম করেনি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। অবশ্য মলদোভা নিশ্চিত করেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকু পপেস্কু রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ঘটনাটি অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্যাব্রিলিতা বলেছেন, ইউরোপীয় অংশীদারদের কাছ থেকে যে সমর্থন আমাদের সরকার পাচ্ছে তা যদি দেশে পাওয়া যেত তাহলে আমাদের অগ্রগতি আরও বেশি ও দ্রুত হত। নতুন ধাপে প্রবেশ করছে মলদোভা। এই ধাপে আমাদের অগ্রাধিকার হলো নিরাপত্তা।
তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট এত বেশি সংকট তার সরকার মোকাবিলা করতে পারবে, এমনটি কেউ আশা করেনি।
গত বছর প্রকাশ্যে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছিলেন গ্যাব্রিলিতা। যুদ্ধের কারণে দেশ ছেড়ে আসা কয়েক হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে স্বাগত জানিয়েছে তার সরকার। গত গ্রীষ্মে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রুশ আক্রমণের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ হবে তা নিয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন।
গ্যাব্রিলিতা বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কোনও দেশ যদি অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল শুরু করে, তাহলে এই বিবেচনায় কেউই নিরাপদ নয়। আমি মনে করি অনেক দেশ উদ্বিগ্ন।