রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাতিল করে ইউক্রেন নিয়ে পশ্চিমাদের প্রতি পারমাণবিক হুমকি দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নতুন কৌশলগত ব্যবস্থা লড়াইয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, মস্কো আবারও পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়া প্রায় এক বছর পর দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করবে এবং অভিযোগ করেছেন পশ্চিমারা রাশিয়াকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনে আক্রমণের মধ্যে দিয়ে শীতল যুদ্ধের পর পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তম মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংঘাতকে বৈশ্বিক যুদ্ধে পরিণত করতে চাইছে বলে সতর্ক করে পুতিন বলেছেন, নতুন স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটি (এসটিএআরটি) চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাতিল করছে রাশিয়া।
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে এটি শেষ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এর আওতায় উভয় দেশের পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েনের সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে।
ভাষণে পুতিন বলেন, আমি আজ ঘোষণা দিতে বাধ্য হচ্ছি যে, রাশিয়া এসটিএআরটি চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করছে।
কোনও প্রমাণ তুলে না ধরেই পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটনে অনেকে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় চালু করার কথা ভাবছে। তাই প্রয়োজনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পারমাণবিক সংস্থা রুশ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।
পুতিন বলেন, অবশ্যই, আমরা তা প্রথমে করব না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি পরীক্ষা চালায়, তাহলে আমরা চালাব। বিশ্বের কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট করার মতো বিপজ্জনক বিভ্রম কারও থাকা উচিত নয়। এক সপ্তাহ আগে আমি একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছি। এতে ভূমি-ভিত্তিক কৌশলগত ব্যবস্থাকে যুদ্ধের দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা কি এখানেও তাদের নাক গলাবে?
তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্টভাবে জানা যায়নি কোনও ধরনের ব্যবস্থাকে লড়াইয়ের দায়িত্ব মোতায়েন করা হয়েছে।
শীতল যুদ্ধের সময়কার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের অনেক কিছুই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে রয়েছে। দেশ দুটি বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। বিশ্বের মোট পারমাণবিক ওয়ারহেডের মধ্যে ৯০ শতাংশ রয়েছে দেশ দুটির।
নতুন এসটিএআরটি চুক্তির ফলে উভয় দেশের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী বোমারুতে ওয়ারহেড মোতায়েন ১ হাজার ৫৫০ এ সীমিত রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে এই লক্ষ্য অর্জন করে দেশ দুটি।