সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্যাফেতে সামরিক ব্লগার ভ্লাদলেন তাতারস্কি হত্যার জন্য ইউক্রেন দায়ী করছে রাশিয়া। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক রুশ নারীকে গ্রেফতার করেছে মস্কো। রুশ পুলিশ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, এতে ওই নারীকে ব্লগার হত্যার বোমা সরবরাহের স্বীকারোক্তি দিতে গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তাতারস্কি হত্যায় ২৬ বছর বয়সী দারিয়া ত্রেপোভাকে গ্রেফতার করেছে রুশ পুলিশ। তার স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে পুলিশ।
তবে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, গ্রেফতারকৃত রুশ নারী তদন্তকারীদের বলেছেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার এই বক্তব্যের তার স্বামীর কথার মিল রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তিনি ক্যাফেতে একটি বাক্স বহন করছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে রাশিয়ার মাটিতে তাতারস্কির নিহত হওয়া দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে রুশ জাতীয়তাবাদী নেতার মেয়ে দারিয়া দুগিনা একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায়ও রাশিয়া ইউক্রেনকে দায়ী করেছিল।
মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে ৫ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে তাতারস্কির। অতীতে তিনি ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছেন। গত বছর তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার জয় নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে হত্যা ও সবাইকে লুট করার প্রয়োজনীয়তার পক্ষে কথা বলেছেন।
রাশিয়ার জাতীয় সন্ত্রাসদমন কমিটি (এনএসি) বলেছে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এই বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এই কাজে কারাগারে থাকা ক্রেমলিন সমালোচক আলেক্সি নাভালনির সমর্থকরা সহযোগিতা করেছে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে সোমবার গ্রেফতারকৃত রুশ নারী ত্রেপোভাকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। এক সময় তিনি ক্রেমলিনবিরোধী নাভালনির কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
রুশ সরকার নাভালনির আন্দোলনকে চরমপন্থি হিসেবে ঘোষণার এর সমর্থকরা বেশিরভাগ বিদেশে পালিয়েছেন। তারা বলছেন, এই বিস্ফোরণ হয়ত রুশ গোয়েন্দা সংস্থা নিজেই ঘটিয়েছে।
তাতারস্কি হত্যাকাণ্ডকে একটি সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। এনএসি’র বক্তব্যকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে তারা বলেছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ইউক্রেনের ভূমিকা থাকতে পারে।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, তদন্ত চলমান রয়েছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। পরবর্তী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করুন।
রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পডোলিয়াক বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অংশ হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করেননি তিনি।