ইউক্রেনে রাশিয়ার কৌশলগত লক্ষ্য হলো একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে একথা বলেছে। তিনি বলেছেন, মস্কো চায় ইউক্রেন ইস্যুতে যেকোনও শান্তি আলোচনার প্রধান বিষয় হবে একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, যেকোনও আলোচনায় রাশিয়ার স্বার্থকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। রাশিয়ার উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে হবে। এই নীতিই ভিত্তি হবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার।
তিনি আরও বলেছেন, এক আধিপত্যবাদীর নেতৃত্বাধীন একমুখী বিশ্ব ব্যবস্থা প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়া।
দীর্ঘ দিন ধরে রাশিয়া দাবি করে আসছে, তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় লড়াই করে আসছে। তাদের যুক্তি, ইউক্রেনে আক্রমণ এই লড়াইয়ের একটি অংশ।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন বলেছে, আক্রমণ জারি রাখা ছাড়া কোনও বিকল্প নেই রাশিয়ার। কোনও কূটনৈতিক সমাধান দৃশ্যমান হচ্ছে না।
এদিকে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বাখমুতে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিদিনের গোয়েন্দা আপডেটে দেশটি বলেছে, রাশিয়ার সেনারা বাখমুতের কেন্দ্রস্থলের দিকে এগিয়ে আসছে সম্ভবত। তারা রাখমুতকা নদীর পশ্চিম তীর দখল করেছে। শহরের পশ্চিমাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইউক্রেনীয় সরবরাহ রুট গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।
রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা এখনও বাখমুত ছাড়েনি। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র সরবরাহসহ অঞ্চলটিতে রুশ বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমারা এই আক্রমণকে উসকানি ছাড়াই রাশিয়ার আগ্রাসী যুদ্ধ বলে উল্লেখ করছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান