জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে চাপ দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার ওপর চীনের চেয়ে বেশি প্রভাব অন্য কোনও দেশের নেই। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে চীন। একই সঙ্গে তারা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সমালোচনা করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।
পুতিনের আমন্ত্রণে ২০ থেকে ২২ মার্চ রাশিয়া সফর করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে চীনের পক্ষ থেকে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ১২ দফা শান্তি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পশ্চিমা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে চীনের ভূমিকা জটিল। চীন নিজেকে নিরপেক্ষ হিসেবে হাজির করার চেষ্টা করছে। কিন্তু একই সঙ্গে তারা রাশিয়াকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে।
বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাংয়ের সঙ্গে বৈঠকের বেয়ারবক বলেছেন, চীন একটি সমাধানের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধতার ইঙ্গিত দিয়েছে, এটি ইতিবাচক। তবে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, এখন পর্যন্ত রাশিয়াকে আগ্রাসী যুদ্ধ বন্ধ করতে কেন বলেনি চীন, এতে আমি আশ্চর্য হয়েছি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুল ভন ডোর লিয়েন সম্প্রতি বেইজিং সফর করেছেন। সফরে উভয়েই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইউক্রেনে সংঘাত অবসানে চীনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছিলেন তারা। তাদের এই আহ্বানের এক সপ্তাহ বেইজিং সফর করছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই বৈঠকের পর চীন ঘোষণা দিয়েছে, চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফু রবিবার চার দিনের সফরে রাশিয়া যাবেন। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর আমন্ত্রণে তিনি রাশিয়া যাবেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন।