গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একজন সাংবাদিককে বন্দি করেছে রাশিয়া। বন্দি সাংবাদিক ৩১ বছরের ইভান গার্শকোভিচ। স্নায়ু যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন সাংবাদিককে এমন অভিযোগে গ্রেফতার করলো রাশিয়া।
মস্কো থেকে এগারোশ’ মাইল পূর্বে একাতেরিনবার্গ শহরে ২৯ মার্চ বন্দি করা হয় তাকে। বন্দি অবস্থা থেকে পরিবারকে লেখা প্রথম চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি আশা হারাচ্ছি না।’ এছাড়া চিঠিতে রুশ কারাগারের খাবার নিয়ে কৌতুক করেছেন তিনি।
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) বলছে, রুশ সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সংগ্রহের কারণে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। তবে গার্শকোভিচ এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তখন থেকেই রাশিয়ার লেফোরটোভো কারাগারে বন্দি আছেন গার্শকোভিচ। সেখানে রুশ আইনজীবীদের তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিলেও কোনও বন্ধু অথবা মার্কিন কোনও কর্মকর্তাকে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমোদন দেয়নি রুশ সরকার।
ফিলাডেলফিয়ায় বসবাসরত বাবা মায়ের কাছে ৫ এপ্রিলে লেখা দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে গার্শকোভিচ বলেন, ‘আমি এখানে পড়ি, ব্যায়াম করি এবং লেখালিখিরও চেষ্টা করছি।’ গত সপ্তাহে এই চিঠি হাতে পায় তার পরিবার।
চিঠিতে মায়ের রান্না নিয়েও কৌতুক করেন তিনি। টিপ্পনি কেটে তিনি লিখেছেন, ‘মা, দুর্ভাগ্যবশত জেলের খাবারের জন্য আমাকে ভালো মতোই প্রস্তুত করেছো তুমি। সকালের নাস্তায় এখানে গরম সুজি ও কর্নফ্লেক্স খেতে দেয়। এগুলো খেয়ে ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যায়।’
রুশ বন্ধুদের পাঠানো জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী পাওয়ার কথাও চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ছেড়ে ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিল গার্শকোভিচের পরিবার। তার মা ইলা মিলমান ও বাবা মিখাইল গার্শকোভিচ ওয়াল স্ট্রিটের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন। তারা জানান, তাদের ছেলে গার্শকোভিচ এখনও রাশিয়াকে ভালোবাসে এবং ইতিবাচক কিছুই হবে বলে আশা করছেন তারা।
তার মা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় থেকে কাজ করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করেছিল ও। তিনি বলেন, ‘আমি জানি ওর অনুভূতি কেমন ছিল। রাশিয়ার মানুষদের ভালোবাসে সে।’
অপরাধ প্রমাণিত হলে ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে গার্শকোভিচের। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গার্শকোভিচের আটককে অন্যায় বলে আখ্যায়িত করেছে।
ক্রেমলিনের দাবি, সাংবাদিকতার আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করছিলেন গার্শকোভিচ। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির সময় তাকে ‘হাতে নাতে ধরা হয়েছে’।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণের আগে থেকেই রাশিয়া থেকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের খবর সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। স্বাধীন সাংবাদিকদের বিদেশি এজেন্ট হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে রাশিয়া। ওই সময় বহু সাংবাদিক রাশিয়া ছাড়তে বাধ্য হয়। অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান