তাইওয়ানে চীনা আগ্রাসন শুরু হলে বিশ্ব বাণিজ্যে ধস নামবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিবার্য এই বিপর্যয় থেকে কোনও দেশ রক্ষা পাবে না। বেইজিংয়ের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক-বিষয়ক এক বক্তব্যে এসব বলেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি। এক্ষেত্রে দূরত্ব কোনও সুরক্ষা দেবে না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ক্লেভারলির এই বক্তব্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এক বিবৃতিতে ম্যাক্রোঁ বলেছিলেন, তাইওয়ান নিয়ে সংকটের তীব্রতা বাড়াতে আগ্রহ নেই ইউরোপের। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নীতির বাইরে গিয়ে তাইওয়ান ইস্যুতে স্বাধীন অবস্থান গ্রহণ করতে ইউরোপকে আহ্বান জানান তিনি।
তার এমন আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লেভারলি বলেন, ‘তাইওয়ানে যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রতিক্রিয়া থেকে কোনও দেশই রক্ষা পাবে না।’
চলমান স্থিতাবস্থা পরিবর্তনে কোনও পক্ষকে একপাক্ষিক পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানান ব্রিটিশমন্ত্রী। তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের প্রাসঙ্গিকতাকে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কন্টেইনার জাহাজ প্রতি বছর তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। এসব পণ্য শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া উন্নত সেমিকন্ডাক্টার উৎপাদন ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ করে তাইওয়ান।’
সর্বাধিক প্রচলিত অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদপত্র নিক্কেই এশিয়ার মতে, তাইওয়ানে যুদ্ধ শুরু হলে প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ব বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
ক্লেভারলি বলেন, ‘তাইওয়ান প্রণালীজুড়ে যুদ্ধ শুরু হলে তা শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয় বয়ে আনবে।’
দক্ষিণ চীন সাগরে ঘাঁটি নির্মাণে চীনের বিপুল বিনিয়গের কারণ নিয়ে ভাবতে বলেন তিনি। সব কিছু বিবেচনা করে চীনের সঙ্গে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক তৈরি ও রক্ষার্থে ব্রিটেন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে সরাসরি সংযুক্ত থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশের মতো চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন ক্লেভারলি।
একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি। রুশ আগ্রাসনে প্রভাবিত না হয়ে অন্যান্য দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে চীনকে আহ্বান জানান তিনি।
ক্লেভারলির বক্তব্যের কোনও প্রতিক্রয়া জানায়নি বেইজিং। তবে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে আধুনিকায়নের দিকে এগোচ্ছি। কখনও অন্য কোনও দেশে আক্রমণ করিনি। চীনের জাতীয় নিরাপত্তানীতি বরাবরই প্রতিরক্ষামূলক।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান