ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সরকার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আক্রমণকারী রুশবাহিনীকে মোকাবিলায় এই অস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ করেছিল কিয়েভ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ মাত্র ৮০ কিলোমিটার।
এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া যায়। দূরপাল্লার হওয়ার কারণে সম্মুখ সমর থেকে দূরে অবস্থান নিয়েও পাইলটরা এগুলো ছুড়তে পারবে। একবার নিক্ষেপ করা হলে স্টর্ম শ্যাডো অল্প উচ্চতায় নেমে আসে যাতে করে শত্রুর রাডারে ধরা না পড়ে। এরপর ইনফ্রারেড প্রযুক্তির সহযোগিতায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার পর ইউক্রেনের নিজেকে প্রতিরক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।
হাউজ অব কমন্সে ইউক্রেনকে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার ঘোষণা দেন ওয়ালেস। পশ্চিমাদের প্রতি এমন অস্ত্র সরবরাহের বারবার অনুরোধের পর এই পদক্ষেপ নিলো যুক্তরাজ্য।
ওয়ালেস বলেছেন, ইউক্রেনের বিদ্যমান সোভিয়েত আমলের যুদ্ধবিমানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলোর রেঞ্জ কম।
এই বছরের শুরুতে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ জোর দিয়ে বলেছেন, দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র পেলে সেগুলো দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা করা হবে না।
স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিটিশ ও ফরাসি বিমানবাহিনী ব্যবহার করেছে। এর আগে আরব উপসাগর, ইরাক ও লিবিয়াতে ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রিটেনের সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা যায়। তবে ফরাসি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে ছোড়া যায়।