রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়া ইউক্রেনীয় সেনারা বলছেন, তারা হামলার জন্য প্রস্তুত। তাদের আশা, এই হামলায় যুদ্ধের অবসান হবে। সোমবার তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় ডনিপ্রোপেট্রোভস্ক এলাকায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ১২৮তম মাউন্টেন অ্যাসল্ট ব্রিগেড। এখানে তারা হামলায় সম্ভাব্য ব্যবহৃত অস্ত্রের চালনা শেখার পাশাপাশি নিজেদের রক্ষার বিভিন্ন সামরিক কৌশলও অনুশীলন করছে।
২৮ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় সেনা, যার কল সাইন দিকি। তিনি বলেন, দ্রুত শেখা আমাদের টিকে থাকার জন্য জরুরি। আমরা পাল্টা আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। যাতে করে শেষ পর্যন্ত আমরা এই যুদ্ধের অবসান করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সপ্তাহে বলেছেন, পাল্টা আক্রমণ শুরুর জন্য কিয়েভের আরও সময় প্রয়োজন। গত সপ্তাহে পাল্টা আক্রমণের আগে পশ্চিমাদের সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন তিনি। রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করাই এই পাল্টা আক্রমণের লক্ষ্য।
কামান নিয়ে প্রশিক্ষণে থাকা ইউনিটের ৪৫ বছর বয়সী কমান্ডার রোমান কোমিচ বলেছেন, আমরা আক্রমণের অপেক্ষায় আছি। আমার মতে, আমরা দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমরা নিজেদের আরও নিখুঁত করে তুলতে সদা ব্যস্ত।
২০১৫ সালে সেনাবাহিনীতে প্রথম যোগ দিয়েছেন দিকি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার আক্রমণের পর বাহিনীতে তিনি পুনরায় ফিরে আসেন। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ তাকে ফিরে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।
তার কথায়, শহরগুলোকে এভাবে ধ্বংস হতে যাওয়া দেখা ছিল বেদনাদায়ক। এই যুদ্ধ অবসানের জন্য এগুলো ছিল বেদনাময় অনুপ্রেরণা।
ইউক্রেনের এই ইউনিটটি একটি অভিজাতবাহিনী। ২০১৪ সাল থেকে রুশ বা রুশ সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে তারা। ওই সময় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ক্রিমিয়া দখল করে রাশিয়া।
বেশ কয়েকজন সেনা জানিয়েছেন, তারা বাখমুত শহরের কাছাকাছি লড়াই করেছেন। দক্ষিণ থেকে যুদ্ধ পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার পর এই শহরের লড়াই সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তাক্ত যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।
কমান্ডার কোমিচ বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকে যুদ্ধে লিপ্ত আমাদের ইউনিট। আমরা সব সময় লড়াইয়ে আছি। পাল্টা আক্রমণেও আমরা থাকব।
ব্রিগেডটি সোভিয়েত নির্মিত ক্যালিবার কামান নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে কোমিচ বলেছেন, পশ্চিমাদের পাঠানো নতুন মর্টারের চেয়ে সাঁজোয়া যান সেনাদের সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণাঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য একটি লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করা। যে ভূখণ্ড ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার স্থল সংযোগ তৈরি করেছে।