ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র ‘পারমাণবিক বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা বাড়াবে: মেদভেদেভ

পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে যত অস্ত্র দেবে, ‘পারমাণবিক বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা তত বেড়ে যাবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট ও পুতিন মিত্র দিমিত্রি মেদভেদেভ। মঙ্গলবার (২৩ মে) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 

বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলো একটি ‘পরোক্ষ যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ছে বলে বরাবর দাবি করে আসছে মস্কো। কিয়েভকে পশ্চিমাদের ক্রমবর্ধমান অস্ত্র সহযোগিতার ফলে আরও বড় যুদ্ধের সৃষ্টি হয়ে পারে বলে সতর্ক করে আসছে ক্রেমলিন। 

ভিয়েতনাম সফরে গিয়ে রাশিয়ার প্রভাবশালী নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান মেদভেদেভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইউক্রেনকে যত বেশি অস্ত্র দেওয়া হবে, বিশ্ব তত বেশি ভয়ঙ্কর অবস্থা ধারণ করবে।’

এছাড়া সাবেক এই রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “এবং ইউক্রেনকে দেওয়া অস্ত্র যত বিধ্বংসী হবে, যুদ্ধের অবস্থাও তত ভয়ানক হবে যাকে ‘পারমাণবিক বিপর্যয়’ বলা হয়ে থাকে।”  

গত বছর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তা ও অস্ত্র সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৯ মে) জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিতে সম্মতির পাশাপাশি কিয়েভের সেনাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধবিমান দিতে অনুমোদন দিলেও যুক্তরাষ্ট্র নিজে কবে দেবে বা আদৌ দেবে কি না সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

সোমবার রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর ‘নাশকতাকারী’ দল এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করছে নাশকতাকারী গোষ্ঠী পিছু হঠে আবার ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ফিরে গেছে। নিয়মিত বুলেটিনে মন্ত্রণালয়টি বলছে, হামলাকারীদের মধ্যে প্রায় ৭০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে চায় তারা। তবে একইসঙ্গে ক্রেমলিনের সঙ্গে মার্কিন সমর্থিত ন্যাটো জোটের সরাসরি সংঘাতকেও এড়িয়ে যেতে চায় দেশগুলো। 

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর নিজেকে কট্টর যুদ্ধবাজ হিসেবে তুলে ধরেছেন করেছেন মেদভেদেভ। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স