পিছু হঠতে থাকা ওয়াগনার যোদ্ধাদের ওপর ইউক্রেনের হামলা

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুত থেকে পিছু হঠতে থাকা রুশ ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছে কিয়েভের সেনারা। হামলায় গোষ্ঠীটির প্রায় ৮০ যোদ্ধা নিহত ও ১১৯ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র সেরহি চেরেভাটি।

চেরাভাটি জানিয়েছেন, রাশিয়ার একটি সাঁজোয়া যান, ড্রোন, দুটি বাহন ও ৫টি গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করেছে ইউক্রেনীয় সেনারা। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সংঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অবস্থান পরিবর্তন করছে রুশ সেনারা, ভাড়াটে ওয়াগনার গোষ্ঠী যোদ্ধা সরিয়ে নিয়েছে।’

সম্প্রতি বাখমুত থেকে যোদ্ধা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াগনার গ্রুপ। সেনা প্রত্যাহার করে ১ জুনের মধ্যে রুশ সামরিক বাহিনীর কাছে অবস্থান হস্তান্তরের কথা বলেছিলেন ওয়াগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। চলতি মাসের ২৫ তারিখ ভিডিও বার্তায় এমন ঘোষণা দেন তিনি।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু ও সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমোভের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে গোলাবারুদের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রিগোজিন বলেন, ‘প্রায় ৫০ হাজার সেনা নিয়োগ দিয়েছিলাম, তাদের ২০ শতাংশই বাখমুত যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে।’

চেরাভাটি বলেন, ‘তাদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ধ্বংস করতে পেরেছি আমরা। সন্ত্রাসী ওয়াগনারদের ধ্বংস করতে পেরেছি। এখন নিজেদের বাকি যোদ্ধাদের রক্ষা করতেই বাখমুত থেকে পিছু হঠছে প্রিগোজিন।’

প্রায় দশ মাস ধরে হামলার পর গত সপ্তাহেই বাখমুত পুরোপুরি দখলের ঘোষণা দিয়ে তা উদযাপন করেছে পুতিন প্রশাসন। তবে মস্কোর এমন দাবি অস্বীকার করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি শহরটি রক্ষায় এখনও যুদ্ধ করে যাচ্ছে কিয়েভের সেনারা।

সূত্র: নিউজউইক