ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করার চেষ্টা করছে ন্যাটো মিত্ররা। কিন্তু সামরিক জোটটিতে যোগদানের আগ পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় বের করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনের আর মাত্র চার সপ্তাহ বাকি আছে। এই সম্মেলনে সম্ভাব্য এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুমোদন পেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সাধারণভাবে ন্যাটো মিত্ররা মোটামুটি একমত যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলমান অবস্থায় ইউক্রেন জোটে যোগ দিতে পারছে না। জুন মাসের শুরুতে ন্যাটোর এই অবস্থান মেনে নিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেনের নিরাপত্তাবাহিনীকে ন্যাটোর অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল মানে উন্নীত করতে একাধিক বছরের একটি পরিকল্পনায় একমত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে মিত্ররা। এর আওতায় ইউক্রেন ও ন্যাটোর সম্পর্ক জোরদার করা হবে।
তবে জোট মিত্ররা ইউক্রেনের সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বিষয়ে মত ভিন্নতা এখনও নিরসন করতে পারেনি। ২০০৮ সালে একটি স্পষ্ট ঘোষণায় বলা হয়েছিল, এক সময় ন্যাটোতে যোগদান করবে ইউক্রেন। তবে কবে বা কীভাবে তা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
বুধবার ন্যাটোতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জুলিয়ান স্মিথ সাংবাদিকদের বলেছেন, কিয়েভ সরকারের সদস্যপদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয় কীভাবে সমাধান করা হবে তা নিয়ে সদস্যরা এখনও আলোচনা করছে।
জোটের একটি সিনিয়র সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেছে, ইউক্রেনকে সদস্য না করে খুব ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে নিয়ে আসার মতো একটি পরিকল্পনা জোরেশোরে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো পশ্চিমা সরকারগুলো আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইউক্রেনকে জোটের সদস্য করলে ন্যাটোকে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে। রাশিয়া দীর্ঘ দিন ধরে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে আসছে। তারা এটিকে পশ্চিমা শত্রুতাপূর্ণ আচরণের প্রমাণ হিসেবে হাজির করছে।