উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউক্রেনীয় বাহিনীর তুমল লড়াই চলছে বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, রবিবার এসব লড়াইয়ে কিয়েভের সেনারা নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছে এবং কিছু স্থানে রুশদের বিরুদ্ধে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রুশ সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর-পূর্বে তারা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর অগ্রগতি ঠেকিয়ে দিয়েছে। মস্কোতে হামলার চেষ্টাকারী তিনটি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ড্রোন হামলায় সরকারি কার্যালয় থাকা একটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবারকে রণক্ষেত্রে ‘একটি ভালো দিন, একটি শক্তিশালী দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, বিশেষ করে বাখমুতের কাছে-যেখানে রুশবাহিনীর মে মাসে দখল করা শহর পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে ইউক্রেনীয় সেনারা।
মস্কোতে ড্রোন হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি কিয়েভ। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ ধীরে ধীরে রুশ ভূখণ্ডে ছড়াচ্ছে-বিশেষ করে দেশটির প্রতীকী কেন্দ্রগুলোতে।
রবিবার দিবাগত রাতে রাশিয়া এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরে। হামলায় একটি অনাবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় আগুনের সূত্রপাত হলেও কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সুমি অঞ্চলে একটি স্কুলে শনিবারের রুশ হামলায় নিহতের সংখ্যা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই জনে।
ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার বলেছেন, রুশ সেনারা আমাদের সেনাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পিছু হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো এসব অঞ্চল দখল করেছিল। কিন্তু পরে ইউক্রেনীয় সেনারা এসব অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেছে।
তিনি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে তারা অবিরাম হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সেনারা হামলা প্রতিহত করে যাচ্ছে এবং মাঝেমধ্যে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ পিছু হটতে বাধ্য করছে।
জুন মাসে রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইউক্রেন। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও অগ্রগতি তারা অর্জন করতে পারেনি। ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর কুপিয়ানস্ক ও লিম্যানেও তুমুল লড়াই চলছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।