পশ্চিমা সহযোগিতা ছাড়া কত দিন টিকতে পারবে ইউক্রেন?

মার্কিন কংগ্রেসে ইউক্রেনের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা তহবিল আটকে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির মিত্ররা এর প্রভাব নিরূপণের চেষ্টা করছেন। একাধিক মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তার আশঙ্কা, তহবিল অনুমোদন না পেলে তা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় গুরুতর প্রভাব ফেলবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে যেতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা পাশে থাকলে সফলতার নিশ্চয়তা নেই, কিন্তু আমরা যদি না থাকি তাহলে ব্যর্থতা নিশ্চিত।

তাৎক্ষণিক উদ্বেগের ক্ষেত্র হলো পূর্ব ও দক্ষিণে চলমান ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণে এর প্রভাব। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ  সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকার সময়েও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি কিয়েভের বাহিনী।

এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেছেন, ভূখণ্ডে নিয়ন্ত্রণ জারি রাখা ও আরও পুনরুদ্ধারের কথা বিবেচনা করলে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থন ছাড়া কীভাবে সম্ভব তা বিবেচনা করা কঠিন।

বৃহত্তর পরিসরে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মার্কিন সমর্থন বিলম্বিত হলে এর প্রভাব মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতাও পড়বে। ইতোমধ্যে শুক্রবার ইউক্রেন আরেকটি ধাক্কা খেয়েছে। হাঙ্গেরি দেশটির জন্য প্রস্তাবিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা আটকে দিয়েছে। যদিও জানুয়ারিতে এই তহবিল নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু এই খবর কিয়েভ যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তা উঠে আসছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় দেশগুলোও একই পথে হাঁটতে পারে।

কংগ্রেশনাল ইউক্রেন ককাসের কো-চেয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি মাইক কুইগলে  বলেন, আমরা যদি পিছু হটি তাহলে আমাদের মিত্ররাও তা করবে।

এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হিসাব কষতে শুরু করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সহযোগিতা ছাড়া ইউক্রেন কত দিন রাশিয়াকে প্রতিরোধ করতে পারবে। এক সিনিয়র মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার মতে, কয়েক মাস। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে গুরুতর পিছু হটা বা গ্রীষ্মের মধ্যে পরাজয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার জয় শুধু ইউক্রেনের জন্য বিপর্যয়কর সংবাদ নয়, এটি বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্যও বিপর্যয় হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হবে বড় আঘাত।

মার্কিন সহযোগিতায় বিলম্ব অব্যাহত থাকার বিষয়ে এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কাজা কালাস বলেন, আমরা যুদ্ধের অবসান নিয়ে এই মুহূর্তে কথা বলতে পারি না, কারণ আমরা যদি তা করি এবং সুযোগ দেই তাহলে পুতিন জয়ী হবেন। আর এর অর্থ হবে সবার জন্য বিপর্যয়। এর অর্থ হবে আরও সংঘাত, আরও যুদ্ধ, আরও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন। সব ভিন্ন ভিন্ন উদ্বেগ দেখা দেবে। ফলে আমাদের এখন একটি চেষ্টা করতে হবে।

ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে গোলাবারুদ ব্যবহারে রেশনিং পদ্ধতির দ্বারস্থ হয়েছে। রুশ সেনারা পাঁচ থেকে সাতগুণ বেশি গোলাবর্ষণ করছে কিয়েভের তুলনায়।

এক সিনিয়র ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, গোলাবারুদের ঘাটতির কারণে সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের পর্যালোচনা অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত না থাকলে শুরুতে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাবে। এরপর ফুরিয়ে যাবে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র। শেষে ফুরাবে কামানের গোলা ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যেমন-কাঁধ থেকে ছোড়ার মতো ট্যাংক-বিধ্বংসী জ্যাভেলিন ও বিমানবিধ্বংসী স্টিঞ্জার ক্ষেপণাস্ত্র।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের পরাজয় ইউরোপের জন্য কী অর্থ বহন করছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, আমি মনে করি যে, ইউক্রেনের পরাজয়ের পুরো তাৎপর্য মানুষ বুঝতে পারছে না। আমরা ভয়াবহ কিছু দেখতে পাবো: জাতিগত শুদ্ধি অভিযান ও ইউক্রেনের পুরোপুরি ধ্বংস। মনে রাখবেন তারা বুচাতে কী করেছে। তাই আমরা যদি আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সফল হয়ে থাকি তাহলে এটি আমাদের সাফল্য। আর তাই আমাদের অবশ্যই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।