ইউক্রেনের সেনাপ্রধান হতে অস্বীকৃতি কর্নেল জেনারেল সিরস্কির

ইউক্রেনের পদাতিক বাহিনীর কমান্ডার কর্নেল জেনারেল ওলেক্সান্ডার সিরস্কিকে সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইউক্রেনীয় এক সূত্রের বরাতে বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনিকে সরে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু জালুঝনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

জালুঝনি দায়িত্ব ছাড়লে তা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত হবে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে একাধিক ফ্রন্টে লড়ছে দেশটি। গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও সেনাপ্রধানের মধ্যকার বিরোধের কথা প্রকাশ্যে আসলো।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ইউক্রেনীয় সূত্রটি কীভাবে বা কখন সিরস্কিকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি।

এই বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ও জেনারেল স্টাফ তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।  

রুশ আক্রমণের পর কিয়েভকে সফলভাবে রক্ষার জন্য জালুঝনিকে ইউক্রেনীয়রা বীর হিসেবে বিবেচনা করে। ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম তাকে স্থলাভিষিক্ত করার ক্ষেত্রে সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভ ও সিরস্কির কথা তুলে ধরছে।

জালুঝনির নেতৃত্বে রাশিয়ার প্রাথমিক আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিল ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। যদিও অনেকে আশঙ্কা করছিলেন, মাত্র তিন দিনের মধ্যে কিয়েভের পতন ঘটতে পারে। এছাড়া ২০২২ সালের শেষ দিকে রাশিয়ার দখলকৃত বিশাল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয় তার সেনারা। 

কিয়েভের প্রতিরক্ষা ও খারকিভে ইউক্রেনীয় সেনাদের দ্রুত অগ্রগতি এসেছে সিরস্কির তত্ত্বাবধানে। কিন্তু ২০২৩ সালে ইউক্রেনের বহুল প্রতীক্ষিত পাল্টা আক্রমণ মোটা দাগে ব্যর্থ হয়েছে ।

কিয়েভের পশ্চিমা মিত্ররা জালুঝনিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণে কেমন প্রতিক্রিয়া জানাবে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট না। ইউক্রেনের সেনাপ্রধানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

রাশিয়া বলেছে, জালুঝনির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা যুদ্ধের প্রায় দুই বছর ধরে যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল তা প্রতিফলিত হচ্ছে।