ইরান থেকে স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে রাশিয়া এবং তা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহৃত হবে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
লন্ডনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন জানান, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ রাশিয়াকে তাদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আরও গভীর দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহারের সুযোগ দেবে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা স্বল্প দূরত্বে হামলা চালাবে।
ইরান থেকে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। মার্চ মাসে জি-৭ নেতারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ইউরোপে ইরান এয়ারের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করার কথাও ছিল।
ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিনিময়ে রাশিয়া ইরানের সঙ্গে প্রযুক্তি বিনিময় করছে। যার মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু ও মহাকাশ প্রযুক্তিও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করবে, যার মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ইরান এয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের শীর্ষ কূটনীতিকরা এই সপ্তাহে ইউক্রেনে যৌথ সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান।
ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ রাশিয়া-ইরান সামরিক সম্পর্কের গভীরতর হওয়ার প্রমাণ, যা এর আগে ইরান থেকে রাশিয়ায় শত শত ড্রোন পাঠানোর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছিল। পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়া এই ড্রোনগুলো ব্যবহার করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করে এবং বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের ইরান বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ বলেন, ইরান থেকে প্রাপ্ত শত শত স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অস্ত্র সক্ষমতা বাড়াবে এবং ইউক্রেনের ওপর আরও আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানের জাতিসংঘ মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তারা কোনও পক্ষকেই সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, প্রতিবার এই ধরনের তথ্য সঠিক হয় না। ইরান আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আমরা বাণিজ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি করছি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স শাহরিয়ার আমুজেগারকে তলব করে সতর্ক করে বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ দুই দেশের সম্পর্কের ওপর ‘ধ্বংসাত্মক ও অপূরণীয় প্রভাব’ ফেলতে পারে।