ইউক্রেন যুদ্ধ ঠেকাতে ন্যাটো আরও কিছু করতে পারত: স্টলটেনবার্গ

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার শুরু করা আগ্রাসন ঠেকাতে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো আরও কিছু করতে পারত। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জার্মান সাপ্তাহিক সংবাদপত্র এফএএস প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন জোটের বিদায়ী প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ‘এখন যেহেতু আমরা একটি যুদ্ধে সামরিক সামগ্রী সরবরাহ করছি—তাহলে তখনও তো আমরা যুদ্ধ প্রতিরোধে সামরিক সামগ্রী সরবরাহ করতে পারতাম।’

স্টলটেনবার্গ তখন ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন-এর অনিচ্ছার বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেন। রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়বে এমন আশঙ্কার কারণে কিয়েভকে অস্ত্র দিতে চায়নি সংস্থাটি। যদিও রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলা শুরু হওয়ার আগেই অস্ত্র চেয়েছিল ইউক্রেন।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কিয়েভকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে ন্যাটোর সদস্যদের মধ্যে অনেক দ্বন্দ হয়। কেননা, ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়। তবে প্রাথমিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের পরে পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে একের পর এক সামরিক সহায়তা পেতে থাকে দেশটি।

নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ অক্টোবরে ন্যাটোতে তার দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন। ২০১৪ সাল থেকে এই পদে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। জুনে সাবেক ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটকে সংগঠনের পরবর্তী প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেছিলেন, আলোচনার টেবিলেই কেবল ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব।

তিনি বলছিলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসানের জন্য একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে রাশিয়ার সঙ্গে আবারও সংলাপ করতে হবে। তবে এটিকে ইউক্রেনের সামথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।’

ন্যাটো ছেড়ে যাওয়ার পর স্টলটেনবার্গ মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান হিসেবে জার্মান কূটনীতিক ক্রিস্টোফ হিউসগেনের কাছ থেকে দায়িত্ব নেবেন কি-না তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি এফএএসকে বলেছিলেন, তার কাছে ‘অনেক বিকল্প’ রয়েছে এবং তিনি অসলোতে থাকবেন।