পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া: ইউক্রেন

রাশিয়া শীতের আগে ইউক্রেনের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও ইউক্রেনের মিত্রদের দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী পর্যবেক্ষণ মিশন স্থাপনের আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই তথ্য জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আন্দ্রি সিবিহা লিখেছেন, ‘ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের মতে, ক্রেমলিন শীতের আগে ইউক্রেনের পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

রাশিয়া যে এই ধরণের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিয়েভের কেন এমন মনে হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সিবিহা।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি মস্কো।

জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ)-কে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করেও কোনও সাড়া পায়নি রয়টার্স।

পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার কথিত হুমকির জন্য দ্রুত বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় চিত্রের প্রস্তুতি এটি। রাশিয়া একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘তাদের এখানে এবং এখনই থামাতে হবে। পশ্চিম ও বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোকে সন্ত্রাসের এই প্রস্তুতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।’

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। যুদ্ধের প্রথম দিকে মার্চে ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখল করে দেশটি। এর পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ করে ইউক্রেন।

তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল মস্কো।

উভয় পক্ষই নিয়মিতভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকায় গোলাগুলির অভিযোগ করে। এইসব হামলায় একাধিকবার কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যায়, যা একটি পারমাণবিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে এমন ব্ল্যাকআউটের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে তুলেছে।