রয়টার্সের প্রতিবেদন

ক্ষেপণাস্ত্র দিলেও যে কারণে রাশিয়াকে লঞ্চার সরবরাহ করেনি ইরান

তেহরানের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছিল, দেশটি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র বলছে, স্বল্পপাল্লার সেসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরবর্তী লঞ্চার সরবরাহ করেনি ইরান। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর একজন ইউরোপীয় কূটনীতিক, একজন ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং অপরজন মার্কিন কর্মকর্তা। তারা বলেছেন, ইরান কেন ফ্যাথ-৩৬০ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে লঞ্চার সরবরাহ করেনি তা স্পষ্ট নয়। অস্ত্রগুলো কখন চালু হবে এবং সেগুলো কাজ করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে মার্কিন ঘোষণার সময় লঞ্চারগুলো সরবরাহ করেনি ইরান। এদিকে, ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেন, ইরান লঞ্চার সরবরাহ করবে বলে তাদের মনে হচ্ছে না।

রয়টার্স প্রথম রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাতে ইরানের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

দুই বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে বলেছেন, লঞ্চার না পাঠানোর বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। একটি হলো, ক্ষেপণাস্ত্র বহনের ট্রাকগুলো পরিবর্তনের পরিকল্পনা করতে পারে রাশিয়া, যেমনটি ইরান করেছে। আরেকটি কারণ হতে পারে, লঞ্চারগুলোর সরবরাহ বন্ধ করে উত্তেজনা কমাতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে নতুন আলোচনার জায়গা রাখছে ইরান।

এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সাড়া দেয়নি এবং পেন্টাগন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জাতিসংঘে ইরানের মিশনও তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

মস্কোকে ক্ষেপণাস্ত্র বা হাজার হাজার ড্রোন সরবরাহ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। কিয়েভ ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, সেগুলো রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ও বৈদ্যুতিক গ্রিডসহ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে ব্যবহার করে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ১০ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, ইরান রাশিয়াকে ফ্যাথ-৩৬০ সরবরাহ করেছে এবং ‘সম্ভবত ইউক্রেনে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।’

ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেনের জন্য একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ইরানের আধা-সরকারি ফারস বার্তা সংস্থা বলছে, লক্ষ্যবস্তুর কাছে যাওয়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চারগুণ গতিতে চলে।