ইউক্রেনকে আগেই আরও অস্ত্র দেওয়া উচিত ছিল: সাবেক ন্যাটো প্রধান

ইউক্রেনের মিত্ররা রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের আগে কিয়েভকে আরও অস্ত্র সরবরাহ করলে যুদ্ধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাটোর সাবেক প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ। শুক্রবার ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি কোনও কিছু নিয়ে আমি অনুতপ্ত হই এবং এখন আরও স্পষ্ট দেখতে পাই, তা হলো আমাদের ইউক্রেনকে আরও আগে থেকে সামরিক সহায়তা দেওয়া উচিত ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ খবর জানিয়েছে।

নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ন্যাটোর প্রধান ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের ইউক্রেনকে আগেই আরও অস্ত্র সরবরাহ করা উচিত ছিল, যুদ্ধ শুরুর আগেই।

২০২২ সালের শুরুর দিকে মস্কোর সর্বাত্মক আক্রমণের আগে ইউক্রেনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র পাঠানো নিয়ে ন্যাটো সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। স্টলটেনবার্গ উল্লেখ করেন, অধিকাংশ মিত্র দেশ যুদ্ধ শুরুর আগে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের বিপক্ষে ছিল... তারা এর ফলাফল নিয়ে ভীত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমি আমাদের বর্তমান প্রচেষ্টার জন্য গর্বিত, তবে এটি যদি আরও আগে শুরু হতো, তবে হয়তো আক্রমণ প্রতিরোধ করা যেত বা রাশিয়ার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত।

ইউক্রেন যুদ্ধের সময় কিয়েভ পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও উন্নত অস্ত্রের জন্য বারবার অনুরোধ করেছে। যার মধ্যে ছিল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধের ট্যাংক এবং মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

স্টলটেনবার্গ বলেন, কিয়েভকে আরও দ্রুত উন্নত অস্ত্র সরবরাহ করা উচিত ছিল মিত্রদের। তিনি নিজেও এই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি আমার ব্যর্থতার দায় নিচ্ছি।

স্টলটেনবার্গ ন্যাটোর প্রধান হিসেবে তার সময়কালে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর দ্রুত সেনা প্রত্যাহারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি ছিল আফগানরা তাদের নিজ দেশ রক্ষা করতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত এবং তালেবান ফিরে আসা ঠেকাতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত ন্যাটো মোতায়েন থাকবে।

স্টলটেনবার্গ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ন্যাটোর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার সময়ে ট্রাম্প বারবার অপর সদস্য দেশগুলোকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়েছেন। এর মধ্যেই ন্যাটোকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন তিনি।

সাবেক প্রধান বলেন, ট্রাম্পের অধীনে ন্যাটো ধসে পড়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশ ছিল কি ৯০ শতাংশ, তা নিয়ে আমরা চিন্তা করিনি, আমাদের যা করতে হয়েছিল, তা করেছি।

মঙ্গলবার সাবেক ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে স্টলটেনবার্গের স্থলাভিষিক্ত হন। স্টলটেনবার্গকে এখন মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের চেয়ারম্যান হিসেবে নতুন ভূমিকায় দেখা যেতে পারে।