যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পাওয়ার ফলে ইউক্রেন এখন রুশ ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। এটি ইউক্রেনের কুরস্ক অঞ্চলে দখলকৃত অবস্থান রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তবে যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনে এই পদক্ষেপ দেরিতে এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের আগে শেষ দুই মাস মেয়াদে থাকা জো বাইডেনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলায় ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করেছে। রবিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের সামরিক অগ্রগতি বর্তমানে পিছিয়ে রয়েছে। এই নীতিগত পরিবর্তন কুরস্ক অঞ্চলের অভিযানকে শক্তিশালী করতে পারলেও পুরো যুদ্ধে নাটকীয় পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম।
কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সিনিয়র ফেলো মাইকেল কোফম্যান বলেন, এই সিদ্ধান্তটি দেরিতে এসেছে এবং আগের অনেক সিদ্ধান্তের মতো এটি হয়তো যুদ্ধের গতিপথে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারবে না। দূরপাল্লার হামলা যুদ্ধের কৌশলের একটি অংশমাত্র এবং এটি নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা হয়েছে।
এই নীতি কতদিন কার্যকর থাকবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড গ্রেনেল এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর ইউক্রেনে মার্কিন সহায়তার মাত্রা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও কীভাবে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি বিশেষত বিমানঘাঁটিতে হামলার অনুমতি না থাকাটা তাদের জন্য একটি বড় সীমাবদ্ধতা।
কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেন যে অগ্রগতি করেছে, তা ধরে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়া সেখানে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে এবং ১১ হাজার উত্তর কোরীয় যোদ্ধা পাঠিয়েছে। যদিও রাশিয়া এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
প্রথম হামলা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চালানো হতে পারে এবং এতে ব্যবহৃত হতে পারে এটিএসিএমএস রকেট, যা ৩০৬ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
একজন মধ্য ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, এই অস্ত্র ইউক্রেনকে আকাশ হামলার হাত থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে, তবে যুদ্ধের সামগ্রিক গতিপথ পরিবর্তনে এর প্রভাব সীমিত থাকবে। রাশিয়া ইতোমধ্যে তাদের বেশিরভাগ সামরিক সরঞ্জাম ইউক্রেনের অস্ত্রের রেঞ্জের বাইরে সরিয়ে নিয়েছে।
এছাড়া ফ্রান্স ও ব্রিটেন স্টর্ম শ্যাডো বা এসসিএএলপি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেবে কি না, তা নিশ্চিত করেনি।
বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের দীর্ঘ সময়ের লবিং-এর ফল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ অনেক দেরিতে নেওয়া হলো। যুদ্ধের শুরুর দিকে এ ধরনের অস্ত্রের অনুমতি দিলে হয়তো ইউক্রেন বড় ধরনের অগ্রগতি করতে পারত।
কিয়েভের বাসিন্দা ওলগা কোরোভিয়াচুক বলেন, এটি হয়তো সহায়ক হবে। কিন্তু এটি বহু আগে কার্যকর করা উচিত ছিল। এখন এটি আর বড় প্রভাব ফেলবে না।
ইউক্রেনের জন্য কুরস্ক অঞ্চল রক্ষার প্রচেষ্টা একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি ধরে রাখা কঠিন হবে। ইউক্রেনের সামরিক শক্তি এবং রসদ সরবরাহ এর সফলতা নির্ধারণ করবে।