পশ্চিমাদের প্রতি বার্তা

ইউক্রেনে প্রথমবার আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার হামলা

ইউক্রেনে বিমান হামলায় প্রথমবার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ব্যবহার করেছে রাশিয়া বলে দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী। যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রের ব্যবহার করা হলো। এসব ক্ষেপণাস্ত্র মূলত হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক হামলার হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

৩৩ মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকার এটি একটি সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। মস্কো এসব হামলাকে বড় ধরনের উসকানি বলে উল্লেখ করেছিল।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের দাবি সত্য হলে এটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম সামরিক ব্যবহার হবে। সাধারণত এই ধরনের অস্ত্র পারমাণবিক অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত হয় এবং রাশিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে ইউক্রেন জানায়নি ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক ছিল কি না বা এটি কোন ধরণের আইসিবিএম। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের এ বিষয়ে রুশ সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিয়েভভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত আরএস-২৬ রুবেজ। এটি একটি সলিড ফুয়েলচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা ৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। ২০১২ সালে এর প্রথম সফল পরীক্ষা হয়। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি ১২ মিটার দীর্ঘ এবং ৩৬ টন ওজনের, যা ৮০০ কেজি ওজনের পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ডিনিপ্রো শহরের শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। স্থানীয় গভর্নর সেরহি লাইস্যাক জানান, হামলায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, রাশিয়া আরও একটি কিঞ্জাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাতটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেন ভূপাতিত করেছে।

ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ সংস্থা ডিফেন্স এক্সপ্রেস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়ে আগাম অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। তারা উল্লেখ করেছে, এই ধরনের উৎক্ষেপণের ঘোষণা দেওয়া প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের আন্দ্রে বাকলিৎসকি বলেছেন, যদি সত্যি হয়, তবে এটি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইসিবিএমের সামরিক ব্যবহার। তবে এটির পেছনে বিশাল ব্যয় ও সুনির্দিষ্টতার বিবেচনায় চলমান যুদ্ধে এর সামরিক প্রয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এর আগে, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালায়।

মস্কো বারবার বলে আসছে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করলে এটি বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে। অন্যদিকে কিয়েভ জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য রুশ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার সক্ষমতা বজায় রাখতে চায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিবিএম ব্যবহারের এই পদক্ষেপ কেবল যুদ্ধের ময়দানেই নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।