ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি ইউক্রেন

রাশিয়ার ক্রমাগত আগ্রাসনের মুখে সেনা অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং সামরিক সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন। কিয়েভ সরকার প্রতিদিনই ন্যায্য শান্তির দাবি জানাচ্ছে। তবে দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা আপাতত তারা স্থগিত রেখেছে। রুশ বাহিনী ডনেস্ক অঞ্চলে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে তারা প্রতিদিন ধীরে ধীরে শিল্পাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

ওপেন সোর্স বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ বলেছেন, এ বছরের অগ্রাধিকার হলো ফ্রন্টলাইন স্থিতিশীল ও প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা।

আগামী সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ইউক্রেন সংকটের কী পরিণতি হবে, তা নিয়ে কিয়েভ উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা কী হতে পারে, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যোগাযোগ গ্রুপের (ইউক্রেনকে সহযোগিতায় বিশেষ জোট) বৈঠক বাতিল করে, তাহলে এটি অন্য ফর্মে চালিয়ে যেতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ইউক্রেন দূত জেনারেল কিথ কেলোগ বলেছেন, তিনি ১০০ দিনের মধ্যে টেকসই সমাধান বের করার আশা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এখনও আপোষে প্রস্তুত নয়। পুতিন ইউক্রেনকে পুরোপুরি পরাজিত করতে চান।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আমরা শান্তির জন্য অটল থাকব। তবে সে জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাই, যা রাশিয়াকে পুনরায় আগ্রাসন চালানো থেকে বিরত রাখবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাড়াহুড়ো করে শান্তি আলোচনা হলে তা ব্যর্থতার শঙ্কা তৈরি করতে পারে। রুশ বিশ্লেষক গিওর্গি বোভট বলেছেন, যদি উভয় পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে অসময়ে আলোচনার চেষ্টা আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।