ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে আলোচনা থেকে ইউক্রেনকে বাদ দেওয়া হলে তা বিশ্বের স্বৈরশাসকদের কাছে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বার্তা পাঠাবে। শনিবার মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ মন্তব্য করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনা হলে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। তাদের নিজস্ব সম্পর্ক থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের ছাড়া ইউক্রেন নিয়ে আলোচনা করা সবার জন্যই বিপজ্জনক।
তিনি আরও বলেন, এমন আলোচনা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই বার্তা দেবে যে তিনি সঠিক ছিলেন এবং তিনি দায়মুক্তি ও সমঝোতা পেয়েছেন।
জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ হলো, যে কেউ এমন আচরণ করতে পারবে। এটি বড় দেশগুলোর নেতাদের জন্য একটি ইঙ্গিত হবে, যারা একই কাজ করার কথা ভাবছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর এই মন্তব্য করলেন জেলেনস্কি। শুক্রবার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেছেন। তার প্রশাসন মস্কোর সঙ্গে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ আলোচনা করেছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের ইউক্রেন ও রাশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত কেইথ কেলগ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেড ভ্যান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিয়েভ। জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে সংক্ষিপ্ত দুটি বৈঠক হয়েছে, যার একটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উদ্যোগে হয়েছিল।
কিয়েভ সরকার এখনও কেলগ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইউক্রেনের শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠকের অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়া ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে আরও একটি ব্যক্তিগত বৈঠক করারও দাবি জানানো হয়েছে।
জেলেনস্কি এপিকে বলেন, প্রথমত, আমাদের ট্রাম্পের সঙ্গে একটি বৈঠক করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, ট্রাম্পের সঙ্গে আমাদের আলোচনার পর রাশিয়াদের সঙ্গে যেকোনও ধরনের আলোচনার ফরম্যাটে যাওয়া উচিত। আমি আলোচনার টেবিলে আমেরিকা, ইউক্রেন ও রাশিয়াকে দেখতে চাই, কারণ তারা আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কণ্ঠস্বরও উপস্থিত থাকতে হবে।
কিয়েভ মিত্র দেশগুলোর কাছে ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে বা অগোচরে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা না করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, শক্তি দিয়েই কেবল পুতিনকে থামানো যাবে।
ট্রাম্প পুতিনকে আগ্রাসন বন্ধ না করলে আরও নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে একই সময়ে আমেরিকা ইউক্রেনে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা স্থগিত করেছে।
রুবিও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ ইউক্রেনকে ১০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তবে ক্রেমলিনের পাশাপাশি ইউক্রেনকেও সমঝোতা করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি পুতিন যা করেছেন তা ভয়াবহ, দেশ আক্রমণ করা, নৃশংসতা চালানো—তিনি ভয়াবহ কাজ করেছেন। তবে যে অসততা ছিল তা হলো, আমরা কোনোভাবে মানুষকে বিশ্বাস করিয়েছি যে ইউক্রেন রাশিয়াকে ২০১২ বা ২০১৪ সালের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে, তখনও রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করেনি।
রুবিও আরও বলেছিলেন, এর ফলে তারা যা চেয়েছে তা হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার জন্য তহবিল দেওয়া, যেখানে মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকে... এবং এটির অবসান ঘটাতে হবে।
গত সপ্তাহে পুতিন দাবি করেছিলেন, জেলেনস্কির কোনও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার এখতিয়ার নেই। কারণ যুদ্ধের সময় ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না বলে তিনি বৈধতা হারিয়েছেন।