লন্ডনে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনায় নজরে বিরল খনিজ রফতানি

সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনাপূর্ণ বাণিজ্য বিরোধ প্রশমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সোমবার লন্ডনে বৈঠকে বসেছেন। বিরল খনিজ রফতানি ও শুল্ক সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

লন্ডনের ঐতিহাসিক ল্যাংকাস্টার হাউজে শুরু হওয়া এই বৈঠক দুদিন চলার সম্ভাবনা রয়েছে। গত মাসে জেনেভায় প্রাথমিক এক সমঝোতা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এরপর চীন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ধীরগতির পরিচয় দিচ্ছে, বিশেষত বিরল খনিজ সরবরাহে।

হোয়াইট হাউজের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট সিএনবিসি-কে বলেন, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য শুধু আলোচনা নয়, আমরা চীনের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিশ্রুতি চাই—হ্যান্ডশেক চাই। ট্রাম্প ও শি ফোনালাপেই আমরা জানতে পেরেছি যে চীন আবার রফতানি শুরু করবে। এখন সেটা বাস্তবায়ন দরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আলোচনায় রয়েছেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। চীনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস-প্রিমিয়ার হে লিফেং। আলোচনায় লুটনিকের উপস্থিতি বিরল খনিজের গুরুত্বকে ইঙ্গিত করে। কারণ এ খাতের রফতানি নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের আওতায় পড়ে।

চীন বর্তমানে বিরল খনিজ চুম্বকের প্রায় একচেটিয়া সরবরাহকারী। এটি বৈদ্যুতিক গাড়ির মোটরসহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে অপরিহার্য।

জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। এর ফলে মে মাসে চীনের যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি এক বছর আগের তুলনায় ৩৪.৫ শতাংশ কমে গেছে। যা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি হ্রাস পেয়েছে। সাধারণ জনগণের আস্থা ও বাজারে প্রত্যাশাও কমেছে। যদিও চাকরির বাজার আপাতত স্থিতিশীল। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, গ্রীষ্মের মাঝামাঝি থেকে এই চাপ আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

বৈঠকের ঠিক চার দিন আগে ১ ঘণ্টা দীর্ঘ এক ফোনালাপে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা যেন বাণিজ্য যুদ্ধ ও তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার ফল খুবই ইতিবাচক এবং চীন বিরল খনিজ পুনরায় রফতানিতে সম্মত হয়েছে।

পরদিন রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, চীন তিন প্রধান মার্কিন গাড়ি প্রস্তুতকারকের সরবরাহকারীদের সাময়িক রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এপ্রিল মাসে চীন যখন এসব খনিজ ও চুম্বক রফতানি স্থগিত করেছিল, তখন বৈশ্বিক অটোমোটিভ, অ্যারোস্পেস, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রতিরক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজ-এ বলেছেন, জেনেভায় যে অগ্রগতি হয়েছে, এই আলোচনায় তার ভিত্তিতেই আরও বিস্তৃত বাণিজ্য আলোচনার পথ তৈরি হোক।

জেনেভার ওই সমঝোতার পর বিশ্ববাজারে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে আসে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টক সূচকগুলো বড় ধরনের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠে।

তবে ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমার সতর্ক করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধিকাংশ সদস্য এখনও চীনের ব্যাপারে কড়া মনোভাবের। তাই দীর্ঘমেয়াদি কোনও কার্যকর চুক্তির সম্ভাবনা এখনও সীমিত।