মস্কোতে হামলা করতে পারবে, জেলেনস্কির কাছে জানতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, দূরপাল্লার মার্কিন অস্ত্র পেলে ইউক্রেন কি মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে হামলা চালাতে পারবে?  অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

সূত্রের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছিলেন, ভলোদিমির, তুমি কি মস্কোতে হামলা চালাতে পারো?... সেন্ট পিটার্সবার্গেও পারো?  তিনি আরও বলেন, রাশিয়াকে যেন ব্যথা অনুভব করানো যায়, যাতে তারা আলোচনার টেবিলে আসে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনেও জানানো হয়, ৪ জুলাই জেলেনস্কির সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি জানতে চান, কেন ইউক্রেন এখনও রুশ রাজধানীতে হামলা চালায়নি। জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এমন হামলা সম্ভব যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করে।

এই ফোনালাপটি হয় ৪ জুলাই পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের কথোপকথনের পরদিন। হোয়াইট হাউজের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ ছিলেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

এর প্রেক্ষিতেই ট্রাম্প কিয়েভকে প্রস্তাব দেন, যুদ্ধ থামাতে হলে মস্কোকে চাপ দিতে হবে। ট্রাম্প বর্তমানে ইউক্রেনকে নিয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তিনি ন্যাটোর সঙ্গে নতুন একটি পরিকল্পনায় কিয়েভকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ট্রাম্প ইউক্রেনকে বর্তমানে সরবরাহকৃত ১৮টি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ৩০০ কিলোমিটার দূরবর্তী নিশানায় হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে ভাবছেন। এছাড়া, তিনি আগে ইউক্রেনকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার চিন্তাও করেছিলেন। এটি মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গে আঘাত হানতে সক্ষম।

১৪ জুলাই হোয়াইট হাউজে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ন্যাটো পরিকল্পনার আওতায় ব্যাপক সামরিক সহায়তা পেতে যাচ্ছে ইউক্রেন। এর মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র।

উল্লেখ্য, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনকে কয়েক ধাপে এটিএসিএমএস সরবরাহ করলেও ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত তা রাশিয়ার ভূখণ্ডে ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি। সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প।

সূত্র: কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট