জলবায়ু পরিবর্তন ‘অস্তিত্বগত হুমকি’: আইসিজে’র ঐতিহাসিক রায়

জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘তাৎক্ষণিক ও অস্তিত্বগত হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত। বুধবার (হেগ এর স্থানীয় সময়) দেওয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) জানিয়েছে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আইসিজের সভাপতি ইউজি ইওয়াসাওয়া রায়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মারাত্মক ও বহুমাত্রিক, এটি প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ও মানবসমাজ উভয়ের ওপরই গুরুতর প্রভাব ফেলছে। এর পরিণতিই প্রমাণ করে যে এটি এক অস্তিত্বগত হুমকি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবায়ু সংক্রান্ত মামলার এই রায়ের পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জলবায়ু ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক আইনকে আমূল পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

ভানুয়াতুর জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী রালফ রেগেনভানু বলেন, এই রায় গোটা জলবায়ু আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দেবে। গত ৩০ বছর ধরে আমরা অগ্রগতির আশায় অপেক্ষা করছি। এই রায় কথোপকথনের ধারা বদলে দেবে, যা এখন সবচেয়ে প্রয়োজন।

জাতিসংঘ আদালতকে দুটি মৌলিক প্রশ্নের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। প্রথমত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু দূষণ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দেশগুলো কী কী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য? দ্বিতীয়ত, যেসব দেশের কার্বন নিঃসরণ পরিবেশগত ক্ষতির কারণ, বিশেষ করে নিচু দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে, তাদের কী পরিণতি হওয়া উচিত?

আইসিজের উপদেশমূলক মতামত বাধ্যতামূলক না হলেও এর নৈতিক ও আইনগত গুরুত্ব রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, বড় দূষণকারী রাষ্ট্রগুলো একে উপেক্ষা করতে পারে। তবে অনেকেই আশা করছেন, এই রায় জলবায়ু নীতিতে চাপ সৃষ্টি এবং চলমান দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) আইন বিভাগের উপপরিচালক অ্যান্ড্রু রেইন বলেছেন, আইসিজের মতামত আন্তর্জাতিক আইনের প্রেক্ষিতে জলবায়ু সংকটের প্রয়োগব্যাখ্যা স্পষ্ট করবে। এটি আদালত, আইন প্রণয়ন ও জনপরিসরের আলোচনায় প্রভাব ফেলবে।

এই মামলার রায় ঘোষণার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে আসা হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি পর্যালোচনা করেছেন আইসিজের ১৫ জন বিচারপতি। এটি সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক জলবায়ু আইনি রায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আদালত এখন হয়ে উঠছে জলবায়ু লড়াইয়ের এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্র।

হেগে আদালতের বাইরে প্রায় শতাধিক বিক্ষোভকারী ব্যানার হাতে জড়ো হন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আর দেরি নয়, আজই জলবায়ু ন্যায়বিচার চাই’। এসব বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মানুষ ও সংগঠন।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও বিজ্ঞানীদের হুঁশিয়ারি অনুসারে এর বাস্তবায়নের গতি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।