পুতিন বৈঠকে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত প্রতিক্রিয়া চান জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে না চাইলে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখতে চায় কিয়েভ। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবের জবাব আমি সঙ্গে সঙ্গে দিয়েছিলাম- আমরা প্রস্তুত। কিন্তু রাশিয়ানরা যদি প্রস্তুত না থাকে, তখন কি হবে?’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতা করতে চাইছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে জেলেনস্কি যে একান্ত বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন, পুতিন হয়তো কোনও চুক্তি করতে ইচ্ছুক নন।

জেলেনস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়ানরা যদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রস্তুত না থাকে, আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখাক।’

গত কয়েক দিনে ট্রাম্প রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা সত্ত্বেও, শান্তির পথ এখনও অনিশ্চিত। ওয়াশিংটন এবং তার মিত্ররা কিয়েভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কী হতে পারে তা ঠিক করার চেষ্টা করছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে  ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন চালায় রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল দখল করছে তারা। সাম্প্রতিক সময়ে পূর্বাঞ্চলে ধীরে ধীরে অগ্রগতি অর্জন করছে তারা, যদিও সংঘাত মূলত ক্ষয়ক্ষতি মূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কো যুদ্ধ শেষ করতে কতটা এলাকা ছাড়তে ইচ্ছুক তা অজানা। ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন যে কিয়েভ ও মস্কো উভয়কেই জমি ছাড়তে হবে।

জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেন কী করতে চায় তা আলোচনা করার আগে চলুন শুনি রাশিয়া কী করতে চায়। আমরা তা জানি না।’

গত শুক্রবার আলাস্কায় ইউক্রেন নিয়ে পুতিনের সাথে বৈঠক করার পর ওয়াশিংটনে জেলেনস্কির সাথেও বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। এরপর তিনি পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজন করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে পুতিন ইউক্রেনের নেতার সাথে বৈঠক করবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে ভবিষ্যতে ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনার জন্য হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টকে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ব্যবহার করা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি বলেন, এটি চ্যালেঞ্জিং হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার নিকটতম মিত্র হাঙ্গেরি দুবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে।