ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড়ের প্রস্তাব পুতিনের ফাঁদ: ইইউ’র শীর্ষ কূটনীতিক

শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে ভূমি ছাড় দিতে চাপ দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, এটি পুতিনের সাজানো ফাঁদ, যাতে আমাদের পা দেওয়া উচিত হবে না।

ডনবাস অঞ্চল ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। রাশিয়ার আগ্রাসনে গত এক দশকে দেড় মিলিয়নের বেশি ইউক্রেনীয় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ইউক্রেন বরাবরই এই অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনায় ভূখণ্ড বিনিময়ের কথা তুলেছেন।

কাল্লাস বলেন, ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হলো একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী। তিনি স্বীকার করেন, এখনও বিশ্বাসযোগ্য ও দৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে তেমন অগ্রগতি হয়নি। তবে কোন দেশ কতটা অবদান রাখবে, তা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ফিনল্যান্ডের নেতারা যোগ দেন। এর আগে আলাস্কার একটি সামরিক ঘাঁটিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প।

কাল্লাস ওই বৈঠক প্রসঙ্গে বলেন, পুতিন তার সবকিছুই পেয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা এড়ানোসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তিনি আদায় করেছেন। অথচ রাশিয়া এখনও একটি ছাড়ও দেয়নি। বরং হত্যাযজ্ঞ আরও বাড়িয়েছে।

ইইউ ইতোমধ্যে রাশিয়ার ওপর ১৯তম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি জানা যাবে। এর পর হয়তো নতুন কৌশল নিতে হবে।

তবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া বৈঠক এড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বর্তমান ইঙ্গিতগুলো একেবারেই অশোভন। তারা বৈঠক করতে চায় না, যুদ্ধও থামাতে চায় না।

তিনি পশ্চিমা মিত্রদের উদ্দেশে বলেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার রূপরেখা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় ইউক্রেনের অন্তত ১১টি স্থানে আঘাত হানে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে এক ব্যক্তি নিহত ও এক ডজনের বেশি আহত হয়েছেন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব বলেছেন, পুতিনকে বিশ্বাস করা যায় না। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, পুতিন শিকারি ও আমাদের দরজার সামনে দাঁড়ানো এক দানব।

জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি যেকোনও ফরম্যাটে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত, তবে মস্কো এখনও সত্যিকার আলোচনার ইচ্ছা দেখাচ্ছে না।