অস্ত্র মেলায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাজ্য

লন্ডনে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র বাণিজ্য মেলায় ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। গাজায় যুদ্ধ নিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, ৯ থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইকুইপমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল (ডিএসইআই) প্রদর্শনীতে কোনও সরকারি ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

এর আগে লন্ডন ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র রফতানি লাইসেন্স স্থগিত করে, মুক্ত বাণিজ্য আলোচনাও স্থগিত রাখে এবং গাজায় হামলার কারণে ইসরায়েলের দুই কট্টর-ডানপন্থি মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বিবৃতিতে ব্রিটিশ সরকার জানায়, গাজায় ইসরায়েল সরকারের সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভুল। এখনই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। যার মধ্যে থাকবে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি।

যদিও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো মেলায় অংশ নিতে পারবে, তবে কোনও সরকারি প্যাভিলিয়ন থাকবে না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে ইচ্ছাকৃত ও দুঃখজনক বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তারা পুরোপুরি প্রদর্শনী থেকে সরে দাঁড়াবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত মে মাসে ফ্রান্স প্যারিস এয়ার শোতে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোকে আক্রমণাত্মক অস্ত্র প্রদর্শনের অনুমতি দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার কোপেনহেগেনে বৈঠকে বসবেন, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সুইডেন ও নেদারল্যান্ডস কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয় এবং দখলদারত্ব শেষের পথে কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তবে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।