স্ত্রী হত্যায় ছেলের সাক্ষ্যে ২৯ বছরের জেল রবার্টের

লন্ডনে প্রায় এক দশক আগের এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দায়ে ৫২ বছর বয়সী রবার্ট রোডসকে ২৯ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের ইনার লন্ডন ক্রাউন কোর্ট। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং খোদ নিজের সন্তানের দেওয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অবশেষে বিচার পেলেন নিহত ডন রোডস।

ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থায় এই মামলার রায়কে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রায়ে বিচারক জাস্টিস এলেনবোজেন উল্লেখ করেন, রবার্টের চরম ‘যৌন ঈর্ষা’ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

আদালতের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, রবার্ট তার স্ত্রীকে নিজের ‘সম্পত্তি’ মনে করতেন। ডন যখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের স্বাধীন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন, তখনই রবার্ট তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। বিচারকের মতে, এটি কেবল ক্ষণিকের রাগ ছিল না, বরং ঠান্ডা মাথায় করা একটি দীর্ঘ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

প্রসিকিউটররা আদালতে রবার্টের অনলাইন সার্চ হিস্ট্রি তুলে ধরেন। দেখা গেছে, রবার্ট নিয়মিত ইন্টারনেটে ‘ঘরোয়া বিষ’ এবং ‘কভার্ট হিপনোটিজম’ বা গোপন সম্মোহনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করতেন। স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নিস্তেজ করে বা মানসিকভাবে বশ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল তার উদ্দেশ্য। যখন তিনি ব্যর্থ হন, তখন খুনের পথ বেছে নেন। এমনকি নিজের অবুঝ সন্তানকে ব্যবহার করে স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।

এর আগে ২০১৭ সালে রবার্ট নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে ব্রিটিশ আইনের ‘ডাবল জিওপার্ডি’ সংক্রান্ত ২০০৫ সালের পরিবর্তনের কারণে নতুন ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় তাকে পুনরায় বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

মামলার মোড় ঘুরে যায় যখন রবার্টের নিজ সন্তান থেরাপির মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করে। সন্তান জানায়, তাকে দিয়ে তার মা-কে চোখ বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং এরপরই রবার্ট নৃশংসভাবে ডনকে খুন করেন। বিচারক এই কাজকে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত করেছেন।