এপস্টেইন সম্পৃক্ততার অভিযোগে লেবার পার্টি ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রদূত

যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডিত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের অতীত সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসার পর এর ফলে লেবার পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন উদ্বেগ থেকে দলের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ম্যান্ডেলসন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।  

দলের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে ম্যান্ডেলসন বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে আবারও আমাকে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে চলমান বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত।’ তিনি দাবি করেন, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগগুলো মিথ্যা, তবে বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। লেবার পার্টিকে আরও বিব্রত না করতেই তিনি সদস্যপদ ছাড়ছেন বলে জানান এবং এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের কাছে আবারও ক্ষমা চান।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশ করে, যেখানে ২০০৩ ও ২০০৪ সালে ম্যান্ডেলসনের নাম উল্লেখ করে তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে লেনদেনের তথ্য রয়েছে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনও অর্থ গ্রহণের বিষয়ে তাঁর কোনও স্মৃতি বা নথি নেই এবং প্রকাশিত কাগজপত্রের সত্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

এপস্টেইনের দণ্ডের পরও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে আগেই অনুশোচনা প্রকাশ করেছিলেন ম্যান্ডেলসন। তিনি নির্যাতনের শিকার নারী ও কিশোরীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখাকে গুরুতর ভুল বলে উল্লেখ করেন।

লেবার পার্টির একাধিক নেতা তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এমপি র‍্যাচেল মাস্কেল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের স্বাধীন তদন্ত সংস্থা লর্ডস কমিশনার ফর স্ট্যান্ডার্ডসের কাছে নিজেকে সোপর্দ করার আহ্বান জানান। অন্যরা বলেন, সাম্প্রতিক প্রকাশনা দলের ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত করেছে। এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেন, আগেই ম্যান্ডেলসনের সদস্যপদ স্থগিত করা উচিত ছিল।

গত বছর এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত হন ম্যান্ডেলসন। নতুন নথিতে আরও দেখা যায়, নীতিগত বিষয় নিয়ে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। যৌন নিপীড়ন ও বিকৃত যৌনতার উদ্দেশ্যে নারী পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান জেফরি এপস্টেইন।