রাশিয়া বৈশ্বিক সংঘাত চায় না: মেদভেদেভ

ক্রেমলিনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, রাশিয়া কোনও বৈশ্বিক সংঘাত চায় না। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান প্রচেষ্টার মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় শুরু হলেও বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ বলেন, “পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক এবং সহনশীলতার সীমা ক্রমশ কমে আসছে। আমরা কোনো বৈশ্বিক সংঘাতে আগ্রহী নই। আমরা পাগল নই। তবে বৈশ্বিক সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সরকারগুলো বারবার রাশিয়ার স্বার্থ উপেক্ষা করেছে।

রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান মেদভেদেভ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু হওয়া আশাব্যঞ্জক। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলার পর থেকে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত চলছে এবং যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে পরিস্থিতি প্রয়োজন, সেটা থেকে মস্কো ও কিয়েভ এখনও বেশ দূরেই অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলে রাশিয়া ভয় দেখানোর গল্প ছড়াচ্ছে এবং কখনোই কিছু করবে না। কিন্তু বিশেষ সামরিক অভিযান দেখিয়েছে, রাশিয়া তার স্বার্থ রক্ষায় পিছু হটবেনা।” একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে পশ্চিমা নেতাদের করা রুশ বা চীনা হুমকির দাবিও তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, মস্কো দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তুলে ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর গভীর সম্পৃক্ততা ঠেকাতে কৌশল ব্যবহার করে আসছে। মেদভেদেভ জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কোনও বিদেশি শক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করত, তাহলে তা স্পষ্টভাবে যুদ্ধের শামিল হতো।

২০১৪ সালে ইউক্রেনের মাইদান আন্দোলনের পর সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই সময় রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয় এবং মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেনীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াই শুরু করে। ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন ও তার মিত্ররা এটিকে সাম্রাজ্যবাদী ভূমি দখলের চেষ্টা বলে অভিহিত করলেও রাশিয়া এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।