ইউক্রেনে রুশ ড্রোন হামলায় বাবা ও ৩ সন্তানের মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা মা আহত

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও তাদের বাবা রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ওই শিশুদের মা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

খারকিভ অঞ্চলের বোহোদুখিভ শহরে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়িতে রুশ ড্রোনটি আঘাত হানে। আঞ্চলিক প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, হামলায় বাড়িটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয় এবং পুরো পরিবার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।

নিহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী দুই যমজ ভাই এবং তাদের এক বছর বয়সী এক বোন রয়েছে। মারা গেছেন তাদের ৩৪ বছর বয়সী বাবাও। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের মা-কে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী বিস্ফোরণে মাথায় আঘাত, শরীরে দগ্ধ হওয়া এবং শ্রবণশক্তি হারানোর মতো গুরুতর সমস্যায় ভুগছেন।

খারকিভের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, রুশ গোলাবর্ষণ থেকে বাঁচতে এই পরিবারটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ওই শহরে এসেছিল। প্রথম রাতেই এই মর্মান্তিক হামলার শিকার হতে হলো তাদের।

বোহোদুখিভ শহরের মেয়র ভলোদিমির বিলি ফেসবুকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করে লিখেছেন, আমরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ ভবিষ্যৎকে হারিয়েছি। যে মা সন্তানদের হারিয়েছেন, কোনও প্রার্থনা দিয়েই তার হৃদয়ের ক্ষত শুকানো সম্ভব নয়।

খারকিভ ছাড়াও সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে রাশিয়া ইউক্রেন লক্ষ্য করে ১২৯টি দূরপাল্লার ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে ১১২টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী। ড্রোনগুলো জাপোরিজ্জিয়ার একটি হাসপাতাল এবং সুমির একটি রেলওয়ে ডিপোসহ ডনিপ্রো ও পোলতাভাতেও আঘাত হেনেছে।

ক্রমাগত এসব হামলা প্রমাণ করে যে রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, প্রতিটি রুশ হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রাশিয়ার ওপর শক্তিশালী চাপ এবং ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কেবল এই হত্যাযজ্ঞ থামাতে পারে।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হলেও যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি। জেলেনস্কির মতে, ওয়াশিংটন আগামী গ্রীষ্মের আগেই যুদ্ধের একটি সমাধান খুঁজছে।

এদিকে রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ শহরের একটি শিল্পকারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা রাতভর তাদের আকাশসীমায় ১০৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।