গ্রিনল্যান্ডে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ালে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। গত বুধবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপে পশ্চিমারা সামরিক পদচিহ্ন বাড়ালে মস্কো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর সম্প্রতি বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ সেখানে ক্ষুদ্রাকৃতির সেনাদল পাঠিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রাশিয়ার এই কড়া বার্তা এলো।
রুশ আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ল্যাভরভ বলেন, অবশ্যই গ্রিনল্যান্ডকে যদি সামরিকীকরণ করা হয় এবং রাশিয়ার দিকে লক্ষ্য করে সেখানে সামরিক সক্ষমতা তৈরি করা হয়, তবে আমরা পর্যাপ্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেব। এর মধ্যে সামরিক-প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৫৭ হাজার মানুষের আবাসস্থল গ্রিনল্যান্ড গত কয়েক দশক ধরে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে আসেন। তিনি জানান, ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে পৌঁছেছেন তিনি, যার মাধ্যমে সেখানে মার্কিন প্রভাব আরও নিশ্চিত করা হবে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল না করলে রাশিয়া বা চীন তা করে ফেলতে পারে।
ল্যাভরভ এই প্রসঙ্গে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে তিনি ডেনমার্কের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে তারা গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে গণ্য করছে।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনও আলোচনার ক্ষেত্রে তাদের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা বজায় রাখাকে চূড়ান্ত সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছে।