ইউক্রেনজুড়ে প্রায় এক হাজার ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার দিনভর চালানো রাশিয়ার এই অন্যতম বৃহৎ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। বসন্তকালীন অভিযান জোরদার করে ইউক্রেনীয় প্রতিরোধ ভেঙে দিতেই মস্কো এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দিবাগত রাতে প্রায় ৪০০ দূরপাল্লার ড্রোন এবং ২৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মস্কো। এর পর মঙ্গলবার দিনের বেলা আরও ৫৫৬টি ড্রোন দিয়ে বিরল এক হামলা চালানো হয়, যা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলোতে আঘাত হানে। চার বছর আগে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ইউক্রেনে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বিমান হামলা।
রাশিয়ার ড্রোন হামলায় লভিভ শহরের ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত মধ্যযুগীয় কেন্দ্রের ১৬শ শতাব্দীর একটি গির্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লভিভের একটি ব্যস্ত রাস্তায় একটি বিশাল কামিকাজে ড্রোন আছড়ে পড়ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় দেশটির ১১টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের দিকে থাকায় ইউক্রেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার সংকটে পড়তে পারে।
রাশিয়ার এই হামলার প্রভাবে প্রতিবেশী মলদোভায় ইউরোপের সঙ্গে সংযোগকারী একটি প্রধান বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে ডনবাস ও জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনী তাদের অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে রুশ সেনার সংখ্যা ইউক্রেনীয় সেনাদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেন কিছুটা সাফল্য পেয়েছে; তারা জাপোরিজ্জিয়াতে প্রায় ১৫০ বর্গ মাইল এলাকা পুনর্দখল করেছে। ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা রুশ বাহিনীর জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনকে এই সাফল্যে সহায়তা করেছে।
যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজতে গত সপ্তাহান্তে ফ্লোরিডায় ইউক্রেনীয় ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের দুই দিনের আলোচনা কোনও ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। ডনবাস অঞ্চল পূর্ণ হস্তান্তরের দাবিতে রাশিয়া অনড় থাকায় এই অচলাবস্থা কাটছে না।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা রাশিয়াকে আরও সাহসী করে তুলছে। এদিকে ইউক্রেনীয় প্রাভদা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ডনবাস থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা শান্তি আলোচনা থেকে সরে এসে ইরানের সামরিক অভিযানে বেশি মনোযোগ দিতে পারে। ক্রেমলিনও জানিয়েছে, ইরান সংকটের কারণে ওয়াশিংটন, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা বর্তমানে ‘সাময়িক স্থগিত’ রয়েছে।