বার্নহামের হস্তক্ষেপে দ্রুত আইএলআর পেতে পারেন ১৬ লাখ অভিবাসী

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। পর্দার আড়ালে চূড়ান্ত হতে যাওয়া এই নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিসহ প্রায় ১৬ লাখ অভিবাসীকে দ্রুততম সময়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের (আইএলআর) সুযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে হোম অফিস। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে আসা বিশাল সংখ্যক অভিবাসীর জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার যে বিতর্কিত পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মন্ত্রীরা।

গত বছরের শেষভাগে হোয়াইটহলের মূল পরিকল্পনা ছিল, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সহজ ভিসা নীতিতে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সময়কাল থেকেই কার্যকর বা ভূতাপেক্ষ করে স্থায়ী বসবাসের ন্যূনতম সময়সীমা ১০ বছর করা হবে। তবে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামসহ শীর্ষস্থানীয় আঞ্চলিক নেতাদের জোরালো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পর প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

আগের ওই কঠোর নীতির সমালোচকরা সফলভাবে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, হুট করে নিয়ম পরিবর্তন করলে যুক্তরাজ্যের আবশ্যিক খাতগুলো, বিশেষ করে সামাজিক সেবা খাতে তীব্র সংকট তৈরি হবে, এই খাতে বর্তমানে লাখ লাখ বিদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। হোম অফিস তাদের অভিবাসন সংস্কারের ভূতাপেক্ষ অংশগুলো বাতিল করার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী অভিবাসনের সময়ে আসা হাজার হাজার বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরাসরি উপকৃত হবেন। ফলে স্থায়ী হওয়ার জন্য তাদের দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং ৫ বছর পূর্ণ হলেই তারা স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।

অভিবাসন নীতিতে এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন জনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে গভীর অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাউন্টার টেররিজম এবং গোয়েন্দা বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিতর্কটিকে শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি রাষ্ট্রগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা পরিচালিত সুসংগঠিত কিছু প্রচারণার সন্ধান পেয়েছে, যেখানে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজে মেরুকরণ তীব্র করার চেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সুক্ষ্ম ও সুপরিকল্পিত সাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমাজে সুকৌশলে ভীতি ও উদ্বেগ ছড়িয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি এবং ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে অকার্যকর ও দুর্বল হিসেবে ফুটিয়ে তোলাই এই বিদেশি অপশক্তিগুলোর মূল লক্ষ্য।

হোম অফিস যখন একদিকে আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং অন্যদিকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তখন হোয়াইটহলের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ছাড় সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও স্বাধীন আর্থিক সমীক্ষায় এর আগে সতর্ক করা হয়েছিল যে, লাখ লাখ স্বল্প বেতনের কর্মীকে দ্রুত স্থায়ী বসবাসের অধিকার দিলে দীর্ঘমেয়াদে জনসেবা খাতের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের মূল অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্রমবাজারে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা, আবশ্যিক জনসেবামূলক খাতের কর্মী সংকট দূর করা এবং বিদেশি অপশক্তির কুপ্রভাব থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করা।