কোন উড়োজাহাজকে বলা হয় ‘আকাশের সম্রাট’

বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ইতিহাসে এয়ারবাস এ৩৮০-কে আধুনিককালের ‘আকাশের সম্রাট’ বলা হয়। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী বিমান। প্রথম উড্ডয়নের প্রায় দুই দশক পর আজও আকাশে এ৩৮০ ডানা মেললে মানুষ থমকে দাঁড়ায়, অবাক চোখে তাকায় এবং ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে রাখে।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দূরপাল্লার আকাশে রাজত্ব করা বোয়িং ৭৪৭-এর আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এয়ারবাস এই দ্বিতল বিমানের উদ্যোগ নেয়। ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি শুরু হয় এবং ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে এর বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়।

এয়ারবাসের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি ফ্লাইটে ৩০ কোটিরও বেশি যাত্রী বহন করেছে বিমানটি। বিমানটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৭৩ মিটার এবং ডানা প্রায় ৮০ মিটার চওড়া। সম্পূর্ণ ইকোনমি সিট বিন্যাসে এতে সর্বোচ্চ ৮৫৩ জন যাত্রী বসতে পারেন। বিমানের ডানা ব্রিটেনে, লেজ স্পেনে এবং চূড়ান্ত সংযোগ কাজ ফ্রান্সের তুলুজে সম্পন্ন হতো।

এ৩৮০ বিমানের বিশাল আকার, নিস্তব্ধ কেবিন, প্রশস্ত সিট এবং উড্ডয়নের দারুণ স্থায়িত্বের কারণে যাত্রীরা এটি বেশ পছন্দ করতেন। এই বিমানকে সবচেয়ে বিশ্বখ্যাত করে তোলে এমিরেটস এয়ারলাইন্স। বিমানটিতে ছিল নিজস্ব লাউঞ্জ, ফার্স্ট ক্লাস প্রাইভেট স্যুট এবং ৪০ হাজার ফুট উঁচুতে গোসল করার জন্য শাওয়ার স্পা।

যাত্রীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকলেও চার ইঞ্জিনের বিশাল এই এ৩৮০ চালানো এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নমনীয় রুটে চলতে সক্ষম ছোট দুই ইঞ্জিনের বিমানের প্রতি মনোযোগ দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

২০১৯ সালে এয়ারবাস এ৩৮০-এর উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং ২০২১ সালে এমিরেটসের কাছে শেষ ডেলিভারিটি হস্তান্তর করে। এটি একটি যুগের অবসান ঘটালেও বিশ্বের প্রধান প্রধান এয়ারলাইন্সে এ৩৮০ এখনও সগৌরবে আকাশে উড়ে চলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি