ইউক্রেনকে সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে লন্ডন থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাশিয়া। কূটনৈতিক পদে সাত বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মাসে আন্দ্রে কেলিন যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন। তবে তার জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
ইউক্রেনকে যুক্তরাজ্যের হামলাকারী ড্রোন সরবরাহের খবর প্রকাশ্যে আসার পর গত সপ্তাহে রুশ দূতাবাস পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয়। এর পরপরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক স্টাফ হিসেবে কেবল চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভাসিলি এ সিগানোভের নাম রয়েছে।
মস্কো ও কিয়েভে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে জন ফোরম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, রাষ্ট্রদূতের পদ সাময়িকভাবে ফাঁকা থাকা নজিরবিহীন নয়। তবে গত সপ্তাহের কঠোর বিবৃতি এবং ২০১৮ সালের পর থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি দেখে মনে হচ্ছে, নতুন কাউকে না পাঠিয়ে মস্কো হয়তো স্থায়ীভাবেই এই কূটনৈতিক সম্পর্ককে নিম্নধাপে নামিয়ে আনছে।
রুশ দূতাবাসের এক মুখপাত্র দ্য সানডে টাইমস-কে জানান, কেলিন যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্রিটিশ সরকার রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাজ্য নীতি পুনর্বিবেচনা করলে একটি গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপের আশা নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন। ক্রেমলিন এখনও নতুন কোনও প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেনি।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানান, এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। মস্কোয় যুক্তরাজ্যের নিজস্ব রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস সক্রিয় রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনে দুটি ব্রিটিশ কোম্পানির তৈরি ড্রোন দিয়ে হামলার খবরের সত্যতা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করার পর রাশিয়ার অবস্থান কঠোর হয়। টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে রুশ দূতাবাস বলেছে, লন্ডনের এই ধরনের পদক্ষেপের জন্য অনিবার্যভাবে পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং জবাব দিতে হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান