বাবার মৃত্যুর পর নরওয়ের নতুন রাজা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হ্যাকন অষ্টম। আধুনিকতা ও বিনম্রতার জন্য সুপরিচিত হলেও নরওয়ের রাজপরিবারটি বর্তমানে একাধিক বিতর্ক ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর আনুষ্ঠানিকভাবে সিংহাসনে আরোহণ করেন ৫৩ বছর বয়সী হ্যাকন। সরকারের সাথে এক বৈঠকে নতুন এই রাজা নিশ্চিত করেন যে, তিনি তার বাবা ও দাদার ব্যবহৃত মূলনীতি ‘সবকিছু নরওয়ের জন্য’ বজায় রাখবেন।
সম্প্রতি নরওয়ের গণমাধ্যমে রাজপরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক নেতিবাচক আলোচনা শুরু হয়। এসব বিতর্কের মধ্যে রয়েছে রানি মেটে-মেরিটের ফুসফুস প্রতিস্থাপন, দণ্ডপ্রাপ্ত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ, সৎছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া এবং রাজকীয় খেতাব বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের দায়ে হ্যাকনের বোন প্রিন্সেস মার্থা-লুইস ও তার স্বামী আত্মঘোষিত আমেরিকান শামান ডুরেক ভেরেটকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক।
বিতর্ক থাকলেও ছেলে হ্যাকনের ওপর প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের অগাধ আস্থা ছিল। তিনি এক বইয়ে উল্লেখ করেছিলেন, সময় এলে সে সবকিছু ঠিকভাবেই সামলে নেবে। এটা জানা সত্যিই আশ্বস্ত করার মতো। তিনি রসিকতা করে আরও বলেছিলেন, সিংহাসন হস্তান্তরের বিষয়ে আমার বাবার চিন্তার চেয়ে আমি নিজে হ্যাকনের হাতে দায়িত্ব সঁপে দিতে পেরে ভাগ্যবশত অনেক স্বস্তিতে আছি।
লম্বা ও দাড়িওয়ালা চেহারার হ্যাকন রাজকীয় জাঁকজমকের চেয়ে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। একজন সাধারণ নারী ও একক মা মেটে-মেরিটকে বিয়ে করার বিষয়টি শুরুতে বিতর্ক তৈরি করলেও পরবর্তীতে নরওয়েবাসীদের গ্রহণযোগ্যতা পায়। রাজকুমার থাকা অবস্থায় হ্যাকন তরুণ প্রজন্মের পরিবেশ সুরক্ষা, বর্ণবাদ বিরোধিতা ও সমকামী অধিকারের বিষয়ে সরব ছিলেন। ২০২২ সালের জুনে অসলোতে সমকামী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর তিনি বলেছিলেন, আমরা কেমন মানুষ তা রক্ষা করা জরুরি এবং নরওয়ে এমন এক দেশ হওয়া উচিত যেখানে যার যাকে ইচ্ছা ভালোবাসার স্বাধীনতা থাকবে।
১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই জন্ম নেওয়া হ্যাকন সাধারণ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তার বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি আর ১০টি সাধারণ শিশুর মতো বড় হন। নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং পরবর্তীতে লন্ডনের দ্য লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কাজের বাইরে তিনি স্কিইং, সার্ফিং, উইন্ডসার্ফিং ও গান শুনতে পছন্দ করেন। ১৯৯৯ সালে একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে মেটে-মেরিটের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। বিয়ের আগে মেটে-মেরিটের অতীত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল, কারণ তিনি একজন একক মা ছিলেন এবং তার সাবেক সঙ্গীর বিরুদ্ধে মাদক ও মারামারির অপরাধের রেকর্ড ছিল। পরবর্তীতে তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্ম নেয়- ২০০৪ সালে জন্ম নেওয়া প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা (যিনি ভবিষ্যতে রানি হবেন) এবং ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া প্রিন্স সেভ্রে ম্যাগনাস।
সূত্র: উইয়ন নিউজ