যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে ইংলিশ গ্রামের ভোট

কাছের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ১ হাজার ২০০ আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীকে আবাসন সুবিধা দেওয়ার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ইংল্যান্ডের একটি ছোট্ট গ্রামের বাসিন্দারা। প্রায় ৩৫০ জন জনসংখ্যার পিডিংটন গ্রামের এই আইনি বাধ্যবাধকতাহীন গণভোটে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিচ্ছিন্নতার পক্ষে রায় দিয়েছেন।

বুধবার ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ২৮৫ জন বাসিন্দা আলাদা হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং বিপক্ষে ভোট পড়েছেন মাত্র ২৬টি। ভোটগ্রহণ শেষে প্যারিশ চেয়ারম্যান টিম ম্যাকন্যালি বলেন, আমরা কেবল এই অঞ্চল বা দেশের কাছেই নয়, পুরো বিশ্বের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি। এখন থেকে এই অঞ্চলটি ‘প্রিন্সিপালিটি অব পিডিংটন’ নামে পরিচিত হবে।

গ্রামটি থেকে মাত্র আধা মাইল দূরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক বিচেস্টার ঘাঁটি অবস্থিত। লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে ৫০ মাইল দূরের অক্সফোর্ডশায়ারের এই বিত্তশালী গ্রামের বাসিন্দারা সরকারের এই পরিকল্পনার ফলে এলাকায় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া, অপরাধ বৃদ্ধি ও বাড়িঘরের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। যদিও সরকার জানিয়েছে যে স্থানীয়দের ওপর প্রভাব সর্বনিম্ন রাখতে আবাসন সুবিধাটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তৈরি করা হয়েছে।

গ্রামের ৭৭ বছর বয়সী হার্বার্ট ওয়েন বলেন, এটি কেবল পিডিংটনের বিষয় নয়। আমাদের দাদা ও মা-বাবা যেসবের জন্য লড়াই করেছিলেন, এটি তার সবকিছুর প্রতীক। আজকের দিনটি আমাদের জন্য ব্যাটল অব ব্রিটেন।

গণভোটের এই জয়কে অনেকে স্থানীয় গণতন্ত্রের বিজয় বললেও, সমালোচনা করে অনেকে বলছেন এতে নতুনদের প্রতি ভীতি উসকে দেওয়া হচ্ছে।

অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতা লক্ষ্য করা গেছে। দুই বছর আগে লিভারপুলের কাছে এক হামলার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীকে ভুলভাবে মুসলিম আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করার পর থেকে সহিংস প্রতিবাদ ও অস্থিতিশীলতা ছড়ায়। সম্প্রতি ডোভার বন্দরে মাস্ক পরা বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের নৌকা ভেড়াতে বাধা দেয়।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মধ্য-বামপন্থি লেবার সরকার জানিয়েছে, তারা আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় আবাসনে থাকার মেয়াদ কমানো এবং ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া বন্ধের পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত ২০২৫ সালে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিলেও চলতি বছর সেই সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

গ্রামটির ভোটাভুটি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বুধবার বলেন, আমি স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের গভীরতা বুঝতে পারছি। আমি কমিউনিটি ও গণভোটে উত্থাপিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব। তবে আমাদের একটি ন্যায্য পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে যাতে সারা দেশে নতুনদের আবাসনের দায়িত্ব সুষমভাবে বণ্টন করা যায়।

এদিকে রিফিউজি কাউন্সিল-এর প্রধান নীতি বিশ্লেষক জন ফিটনবি বলেন, যুদ্ধ ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয়ের জন্য আসা মানুষদের এমন দূরবর্তী ও অস্বস্তিকর পরিবেশে রাখা তাদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়। অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, এটি সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেছে।

সূত্র: এপি