ইউক্রেনে ভারতীয় মালিকানাধীন ওষুধ কারখানায় রাশিয়ার হামলা, ক্ষতি ৪০০ কোটি

ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে ভারতের কুসুম গ্রুপের মালিকানাধীন একটি বড় আকারের ওষুধ কারখানায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুমিতে অবস্থিত এই ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার মূল ভবনটির বড় অংশই ধ্বংস হয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা ও আহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকাশিত ফুটেজে ড্রোন হামলার স্থান থেকে বিশালাকার ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এই হামলায় অন্তত ৪০০ কোটি রুপির ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি লিখেছেন, আজ সকালে রুশরা কিয়েভের পিভনিচনি ব্রিজে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা সুমিতে একটি সাধারণ ফার্মাসিউটিক্যাল গুদামে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মর্মান্তিকভাবে এতে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। এ ছাড়া ডিনিপ্রোতে একটি যোগাযোগ কেন্দ্রে তারা আঘাত হেনেছে। এসব হামলায় মোট ছয়জন আহত হয়েছেন।

কুসুম গ্রুপটি ১৯৯৪ সালে ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ রফতানিকারক ও পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্ত এটি পরিচালনা করছেন। ২০০২ সালে তারা নিজেদের ব্র্যান্ডের বিপণন শুরু করে এবং পরে উৎপাদনে যায়। ২০০৭ সালে ভারতে এবং ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে কারখানা স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। এটি মূলত ৫০টিরও বেশি জেনেরিক পণ্য তৈরি করে এবং ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইনসহ নয়টির বেশি দেশে বিক্রি করে। কুসুম গ্রুপ নিজেদের ‘ভারতীয় মূলের ইউক্রেনীয় কোম্পানি’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীনও সুমি কারখানাটির উৎপাদন চালু ছিল, যা এবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলো।

চলতি গ্রীষ্ম থেকে মস্কো প্রতিদিন ইউক্রেনে বহু দ্রুতগতির এবং অপেক্ষাকৃত সস্তা জেট চালিত শাহেদ ড্রোন দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলোর গতি কম হওয়ায় এগুলোকে আটকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে ইউক্রেন চলতি সপ্তাহে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পাল্লার নিজস্ব তৈরি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এফপি-৭-এর প্রথম সফল ব্যবহারের কথা ঘোষণা করেছে।