জীবনযাত্রার ব্যয়, গণসেবা ও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের ওপর ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া সর্বশেষ দেশব্যাপী বিক্ষোভে শনিবার নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থা সামলাতে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করছে ফ্রান্স। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
হ্যালোইনের দিনে পড়া এ দেশব্যাপী বিক্ষোভ হচ্ছে দুই সপ্তাহ আগের দাঙ্গা ও লুটপাটের পর, যখন নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছিল। এতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দোকানপাট, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেবেন না বলে শপথ নিয়েছেন।
এ সপ্তাহের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিবরণ দিয়ে নুনেজ বলেন, যেকোনও গোলযোগের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর জবাব নিশ্চিত করতে সবাই প্রস্তুত। তিনি দিনটিকে অস্থিরতার অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হ্যালোইনের মুখোশ ব্যবহার করে দাঙ্গাকারীরা পরিচয় আড়াল করতে পারে, এ সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক কর্তৃপক্ষ। নুনেজ উল্লেখ করেন, জনশৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়লে মুখ ঢেকে রাখা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া আইন আগে থেকেই আছে। যেসব এলাকায় বিক্ষোভ বা বড় জমায়েতের পরিকল্পনা আছে, সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।
ম্যাক্রোঁর সংখ্যালঘু সরকার ২০২৭ সালের বাজেট নিয়ে আলোচনা শুরু করলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ গতি পায়। দেশটির সরকারি ঋণ অর্থনীতির আকারের প্রায় ১২০ শতাংশে ঠেকেছে এবং ঋণ নেওয়ার খরচও বাড়ছে। ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকার চাপে আছে, ফলে তার সুযোগ সীমিত।
অনেক স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থা, ঠাসাঠাসি শ্রেণিকক্ষ এবং ব্যাপকভাবে অন্যায্য বলে বিবেচিত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন ও নতুন করে ফিরে আসা ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন। তাদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।